এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক পোষ্টের জেরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেন প্রাক্তন আমলা আশীষ জোশী। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের সময় দিল্লীর নেহেরু পার্ক থেকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। প্রাক্তন আমলার অভিযোগ, আটক করার পর তাঁকে সন্ধ্যে পর্যন্ত বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেল পোষ্টে এই অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, তিনি চাইলেও তাঁকে এফআইআর-এর কোনও কপি দেওয়া হয়নি।
দিল্লীর পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারকে ট্যাগ করে করা ওই পোষ্টে আশীষ জোশী জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকালে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে জানানো একটি আইনি বাধ্যবাধকতা, কোনও ঐচ্ছিক সৌজন্য নয়। গতকাল সকালে প্রাতঃভ্রমণের পর আমাকে এই আশ্বাস দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় যে খুবই অল্প সময় লাগবে। আমি কোথায় আছি একথা আমার স্ত্রীকে জানানোর জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক জানান তাঁরা ‘নির্দেশ পালন করছেন’। এরপর সন্ধ্যে ৬.৩৮ মিনিটে আমাকে বাড়িতে ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়।
ওই বার্তাতেই তিনি আরও লেখেন, ‘আমি অনুরোধ করছি যে, আপনি সমস্ত ইউনিটের প্রতি এমন সুস্পষ্ট নির্দেশ জারি করুন যাতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়—জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতা যেন কঠোরভাবে পালন করা হয়; যাতে কোনো নাগরিকের পরিবারকে সেই মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়, যা আমার পরিবারকে সহ্য করতে হয়েছিল।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রাক্তন কন্ট্রোলার অফ কমিউনিকেশনস আশীষ জোশীকে দিন দুয়েক আগে দায়ের করা একটি এফআইআর-এর সূত্রে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাণক্যপুরী থেকে আটক করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২ ধারায় সিআই ইউনিট এই এফআইআর করে। এই ধারা অনুসারে দাঙ্গা ঘটানোর অভিপ্রায়ে বা ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
আশীষ জোশীর ঘটনা প্রসঙ্গে দ্য ওয়্যার তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের মধ্যে কথিত “মতবিরোধ” প্রসঙ্গে প্রাক্তন আমলা আশীষ জোশী তিন সপ্তাহ আগে একটি ট্যুইট করেছিলেন। এই ট্যুইট প্রসঙ্গেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে করা তাঁর একটি ট্যুইটও আলোচনায় এসেছিল।
জানা যাচ্ছে, মূলত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে করা ট্যুইট নিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হলেও তাঁকে প্রধানত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবের ট্যুইটের বিষয়েই।
এই ঘটনার কথা প্রথম জানান কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত। বুধবার সকালে এক এক্স বার্তায় তিনি বলেন, "আজ সকালে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সুশীল সমাজের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তাকারী আশিস জোশিকে (@bismil_prasad — অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব) নেহরু পার্ক থেকে দুজন পুলিশ কনস্টেবল নিয়ে গেছে। সকালে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। সকাল ১০টা থেকে আমরা তাঁর খোঁজ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং দিল্লি পুলিশ ও দিল্লি পুলিশ কমিশনারের (@DelhiPolice, @CPDelhi) উচিত যত দ্রুত সম্ভব আমাদের জানানো যে তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন