

'নিউজলন্ড্রি'-র এক্সিকিউটিভ এডিটর মনীষা পাণ্ডে সহ ওই মিডিয়া হাউসের একাধিক মহিলা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় 'কুৎসিত আপত্তিকর' পোস্ট করেছিলেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষ্যকার অভিজিৎ আইয়ার-মিত্র। ৫ ঘন্টার মধ্যে সেই সমস্ত পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। নির্দেশ অমান্য করলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।
অভিজিৎ আইয়ার-মিত্রকে দিল্লি হাইকোর্ট বুধবার সতর্ক করে জানিয়েছে, সাংবাদিক মনীষা পান্ডে ও আরও আটজন মহিলা সাংবাদিককে নিয়ে করা আপত্তিকর পোস্ট মুছে না ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা (FIR) দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে এক্স মাধ্যমে মহিলা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করা একাধিক পোস্ট আদালতের নজরে আসে, যেগুলিকে "সভ্য সমাজে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করা হয়েছে। আদালত জানায়, এই ভাষার প্রয়োগ মহিলাদের ক্ষেত্রে অসম্মানজনক।
আদালত পরিষ্কার জানায়, “পটভূমি যাই হোক না কেন, নারীদের বিরুদ্ধে এই ধরণের ভাষা সমাজে কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে?" পোস্টগুলি কেন সরানো হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারক বলেন, "আমি বিচারিক আদেশ দিচ্ছি। আপনাকে এইধরনের কাজ করতে স্পষ্ট নিষেধ করছি। আইনত এটি অনুমোদিত নয়। আমরা, একটি সাংবিধানিক আদালত হিসেবে, প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর নথিভুক্ত করে আসামীকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেব।”
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন সাংবাদিকরা। তাঁদের অভিযোগ, আইয়ার-মিত্র সাংবাদিকদের “পতিতা” এবং তাদের সংস্থা নিউজলন্ড্রিকে “পতিতালয়” বলে উল্লেখ করেছেন। একবার নয়, একাধিকবার এমনটা করেছেন বলে অভিযোগ। মহিলা সাংবাদিকদের নিয়ে কুৎসিত ভাষায় কবিতা লিখে পোস্ট করেছেন বলেও অভিযোগ। মামলায় লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়া ও ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে।
অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী জয় অনন্ত দেহদ্রাই আদালতে যুক্তি দেন, কোনও পোস্টে কোনও সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়নি। তিনি নিউজলন্ড্রির আয়ের উৎস নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে আদালত তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়নি। অবশেষে তিনি বলেন, "আমার মক্কেল পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টগুলি সরিয়ে ফেলবেন। অবশ্যই আমার মক্কেলের শব্দচয়ন আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল।”
আদালত জানায়, আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শুনানির সময় পর্যন্তও তা মানা হয়নি, যা আদালতকে অবমাননা করার সমান।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন