

দিল্লিতে এক কারখানার সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে মৃত্যু হল তিন শ্রমিকের। শুক্রবার দিল্লীর মুন্ডকা শিল্প অঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসে ওই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে দুপুরে ১২ টা নাগাদ তাদের কাছে একটি ফোন আসে। সেখান থেকেই এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। মৃতদের নাম অরুণ (৩৮), সন্দীপ (৩২) এবং চাঁদ (৪২)। এঁরা প্রত্যেকেই সুলতানপুরীর ইন্দ্র ঝিল অঞ্চলের বাসিন্দা।
দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দ্রুততার সঙ্গে দুটি উদ্ধারকারী গাড়িকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে আনলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়েছিল। এর পরেই মুন্ডকার এসডিএম-কে পুরো ঘটনাটি জানানো হয়। এর আগেই দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, প্রথম ব্যক্তি সেপটিক ট্যাঙ্কে নামার পরেই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তখনই তাঁকে উদ্ধার করার জন্য আরও দু’জন ওই সেপটিক ট্যাঙ্কে নামে। এরপর বিষাক্ত গ্যাসে তিনজনই অচৈতন্য হয়ে পড়ে এবং তাদের মৃত্যু হয়।
সংসদে গত ১৭ মার্চ কী জানিয়েছিলেন মন্ত্রী ?
চলতি বছরের ১৭ মার্চ লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইক্রা চৌধুরীর করা এক প্রশ্নের উত্তরে (প্রশ্ন নম্বর ৪০৩১) সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট দপ্তরের মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি সংবিধানের সপ্তম শিডিউল অনুসারে রাজ্যের বিষয়। তাই এক্ষেত্রে ঠিকাদার অথবা অন্য কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ করানোর কোনও তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে রাখা হয়না।
২০১৭ থেকে কতজন শ্রমিক এই কাজে মারা গেছেন?
লিখিত ওই উত্তরে মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে জানিয়েছিলেন ২০১৭ সাল থেকে তখন পর্যন্ত সারা দেশে এই ধরণের কাজ করতে গিয়ে ৬২২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৫৩৯ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, ২৫ জন আংশিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এবং ৫২ জন কোনও ক্ষতিপূরণ পাননি। ৬ টি মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পাওয়া রাজ্যের নিরিখে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ (১৩), হরিয়ানা (১২) এবং মহারাষ্ট্র ও দিল্লি (৯ টি করে)।
দেশের মধ্যে কোন রাজ্যে সবথেকে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে?
রাজ্যওয়াড়ি যে হিসেব মন্ত্রী দিয়েছিলেন তাতে দেখা গেছে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬-এর ১৬ মার্চ পর্যন্ত এই ধরণের কাজে সবথেকে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে, ৮৬টি। এরপরেই তালিকায় আছে মহারাষ্ট্র (৮২), তামিলনাড়ু (৭৭), হরিয়ানা (৭৬), গুজরাট (৭৩) দিল্লি (৬২), রাজস্থান (৩৭), কর্ণাটক (২৮), পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ (২৫টি করে), মধ্যপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা (১৪টি করে)।
কত সালে এই বিষয়ে আইন আনা হয়েছিল?
ম্যানহোলে মানুষ নামিয়ে কাজ করা বন্ধের জন্য ২০১৩ সালেই আইন আনা হয়েছিল। তাতে উল্লেখ ছিল, ম্যানহোল সাফাই, মলমূত্র সাফাই কিংবা বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ মানুষকে দিয়ে করানো যাবে না। আইনত তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে ম্যানহোলে মানুষ নামানোর প্রয়োজন হয়, তবে তাঁকে জীবন এবং স্বাস্থ্যের সব রকম সুরক্ষা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সরকারকে।
২০২৫-এ কী জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট?
২০২৫-এর ২৯ অক্টোবর এই সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ম্যানহোল পরিস্কার করতে নেমে কার কার মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের সন্ধান করে পরিবারের হাতে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণ তুলে দিতে হবে। সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এমনই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এন. ভি. আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, এখনও বহু জায়গায় নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। ফলে তৎপরতা বাড়াতে হবে সরকারকে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন