

হারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যপ্রদেশের দাঁতিয়া জেলার পুরো সংগঠন ভেঙে দিল বিজেপি। গতকালই উপনির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে বিজেপিকে। দাঁতিয়া কেন্দ্রের প্রেস্টিজ ফাইটে এই পরাজয় ভালোভাবে নেয়নি বিজেপি নেতৃত্ব। যার জেরে দাঁতিয়া জেলার পুরো কমিটিই ভেঙে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ রাজ্য বিজেপি।
বিজেপি মধ্যপ্রদেশের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে রাজ্য সভাপতি হেমন্ত খান্ডেলওয়ালের তৈরি করা এক কমিটি এই হারের কারণ খতিয়ে দেখবে। আপাতত দাঁতিয়া জেলার সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হল।
রাজ্য বিজেপির এই নির্দেশের ফলে পদ হারালেন দাঁতিয়া জেলা সভাপতি, জেলা কমিটির সদস্যরা, মণ্ডল কমিটির সদস্যরা। এছাড়াও দাঁতিয়া জেলা বিজেপির সমস্ত মোর্চা, সেল সহ সমস্ত সাংগঠনিক ইউনিটের সদস্যরা।
গতকালের পরাজয়ের পর এদিনই বিজেপি রাজ্য কমিটির পক্ষে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি হেমন্ত খান্ডেলওয়াল, উপমুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেভবা সহ রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব।
দাঁতিয়া কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণার পর থেকে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল চরমে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নরোত্তম মিশ্রকে মনোনয়ন দিতে অস্বীকার করার পর তাঁর অনুগামীরা রীতিমত তান্ডব চালান। দীর্ঘ সময় অবরোধ করে রাখে জাতীয় সড়ক। উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করে আশুতোষ তিওয়ারীকে। দাঁতিয়া কেন্দ্রে আশুতোষ তিওয়ারীর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর ওই জেলার সভাপতি সহ বেশ কয়েকজন বিজেপির কর্মকর্তা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফাও দেন।
দাঁতিয়া কেন্দ্রে পরাজয়ের পর বিজেপির প্রাথমিক রিপোর্টেও গোষ্ঠী কোন্দলের কথাই উঠে এসেছে। যে রিপোর্ট অনুসারে, কমপক্ষে ৬ জন বিজেপি কাউন্সিলর বিজেপির ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং প্রচারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেননি। এছাড়াও নরোত্তম মিশ্রের অনুগামীরাও প্রকাশ্যে বিজেপি প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন।
দাঁতিয়া কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং পেয়েছেন ৪২.৩৯ শতাংশ ভোট। বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৩৮.৫৭ শতাংশ ভোট এবং আজাদ সমাজ পার্টি (কাঁসি রাম)-র প্রার্থী পেয়েছেন ১৪.৩ শতাংশ ভোট। এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ৬,০১৬।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন