

দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী। শুক্রবার ১৩ মার্চ লেখা ওই চিঠিতে অবিলম্বে দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবার পাশাপাশি ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক। চিঠিতে গ্যাসের কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার পাশাপাশি ‘গিগ কর্মী’ এবং ছোটো রেস্তোরাঁ মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গতকালের লেখা চিঠিতে বেবী জানিয়েছেন, “ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের আগ্রাসন জ্বালানি সরবরাহকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে; সরকারের বিভিন্ন দাবি সত্ত্বেও, বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকার ভর্তুকিযুক্ত এবং ভর্তুকিহীন—দুই শ্রেণীর রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দামই বাড়িয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপে জর্জরিত মানুষের ওপর এটি বাড়তি বোঝার সৃষ্টি করেছে। এখন এর ওপর আবার মানুষ রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটেরও মুখোমুখি হচ্ছে।”
সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, “সাধারণ মানুষকে গ্যাস রিফিল বা পুনরায় ভরানোর জন্য নাম লেখাতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেখানে কালোবাজারিরা দেদার ফায়দা লুটছে। গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত গ্যাসের সিলিন্ডারগুলো কালোবাজারে ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে কালোবাজারি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রকৃত অভাবী সকল ব্যক্তির কাছে গ্যাসের সিলিন্ডারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।”
গিগ ওয়ার্কার এবং ছোটো রেস্তোরাঁর সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “রান্নার গ্যাসের সংকট অনেক রেস্তোরাঁ এবং অফিসের ক্যান্টিনকেও প্রভাবিত করেছে। রান্না করা খাবার সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল ‘গিগ ওয়ার্কার’-রা তাদের জীবিকা হারাচ্ছেন। রান্নার বিকল্প উৎস—যেমন ইন্ডাকশন স্টোভ এবং বৈদ্যুতিক কুকারের—দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কাঠের দামও চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। আমাদের নজরে আরও এসেছে যে, ভোজ্য তেলের দামও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
তিনি দাবি করেছেন যে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রোধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্রদের হস্টেলে প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরির মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অ্যাপে অর্ডারের মাধ্যমে খাবার দেন এমন গিগ শ্রমিকদের জীবিকা সঙ্কটে পড়েছে। তাঁদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এম এ বেবী জানিয়েছেন, এই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমাদের সমাজের দরিদ্রতর অংশকে ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত শ্রেণী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই বাড়তি বোঝার নিচে পিষ্ট হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ আমাদের দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এক চরম বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলছে। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে এমন সব স্থানে, যেখানে গ্যাস-ভিত্তিক শ্মশানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন