

শবরীমালা আয়াপ্পা মন্দিরের সোনা চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত দলীয় নেতা এবং ত্রাভাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি এ পদ্মকুমারকে সাসপেন্ড করলো সিপিআইএম। যদিও এখনও পর্যন্ত আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি, তবুও তার আগেই দলের মধ্যে থেকেই চাপ বাড়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে শবরীমালা কান্ডে গ্রেপ্তার হন এই সিপিআইএম নেতা। প্রাথমিকভাবে দল তাঁর পাশেই ছিল। এই মুহূর্তে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং আদালত এখনও ওই সিপিআইএম নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। কিন্তু দলের মধ্যেই এই ঘটনা ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের কারণে এদিন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়।
কেরালার প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক এ পদ্মাকুমার বর্তমানে পাঠানমথিত্তা জেলা কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি ত্রাভাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন। শবরীমালা মন্দিরের সোনা চুরি কান্ডে তাঁর নাম জড়ানোর পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তিন মাসের বেশি সময় তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। যদিও নির্ধারিত ৯০ দিন সময়ের মধ্যে তদন্তকারী দল কোনও অভিযোগপত্র দাখিল করতে না পারায় আপাতত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত আছেন।
সোমবার ১৫ জুন পাঠানমথিত্তা জেলা কমিটির বৈঠকে তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এই সাসপেনশন কত দিনের তা জানানো হয়নি। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ওই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।
শবরীমালা সোনা চুরি কান্ডে এ পদ্মকুমার ছাড়াও আরও ১০ জন অভিযুক্ত। তিনি একাদশ অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরেই সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে তাঁকে নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তাঁর কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত করা হয়।
এ পদ্মকুমারের সাসপেনশন প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতা এবং কেরালা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য টি এম থমাস আইজ্যাক জানিয়েছেন, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের তদন্ত রিপোর্টের ওপর এ পদ্মকুমারের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্ভর করছে।
কেরালার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরালার নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় শবরীমালা কান্ডে দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের ২০ নভেম্বর তাঁর গ্রেপ্তারির পর দলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটা বড়ো অংশের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। যার প্রভাব ভোটের ফলাফলে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরানমুলা কেন্দ্রের প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক এবং গত পাঁচ দশক ধরে পার্টির সঙ্গে থাকা এ পদ্মকুমারের নাম শবরীমালা কান্ডে জড়িয়ে যাওয়ায় দল অস্বস্তিতে পড়ে। কেরালা হাইকোর্টের তৈরি করে দেওয়া তদন্তকারী দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুসারে ২০১৯ সালে পদ্মকুমার যখন শবরীমালা ট্রাষ্টের সভাপতি ছিলেন সেই সময়েই এই সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আদালত এ পদ্মকুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।
শবরীমালা কান্ডে মূল অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টি। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, ২০১৯ সালে এ পদ্মকুমার ত্রাভাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের সভাপতি থাকাকালীন দ্বারপালক মূর্তির স্বর্ণ খচিত তামার পাত এবং শ্রী কোভিল (গর্ভগৃহ)-র দরজার চৌকাঠ প্রধান অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টির কাছে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং-এর জন্য হস্তান্তর করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। যদিও এই হস্তান্তরের সময় তিনি বোর্ডের সভাপতি ছিলেন না বলে জানিয়েছেন এ পদ্মকুমার। তাঁর যে দাবি মানতে চায়নি সিট।
গত বছরের মার্চ মাসে সিপিআইএম কেরালার রাজ্য সম্মেলনে রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়েন এ পদ্মকুমার। যার পর তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোল্লামের সম্মেলন মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন