দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালের (Arvind Kejriwal) অব্যাহতির রায়কে স্বাগত জানালেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan)। শুক্রবার দিল্লির এক আদালতে দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়া (Manish Sisodia) সহ আরও ২১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রায় প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক পোষ্টে পিনারাই জানান, এই রায় শুধু বিজেপির জন্যই নয়, কংগ্রেসের জন্যও বড়ো ধাক্কা। কারণ কংগ্রেস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গেরুয়া শিবিরকে সহায়তা করেছে।
গতকালের রায় প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান সিপিআইএম (CPIM) নেতা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলিকে অস্থিতিশীল করার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চেষ্টা নিয়ে কার্যকরভাবে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আদালত। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আদালত সিবিআই-এর বিরুদ্ধে কঠোর ভর্ৎসনা করেছে।
অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং দিল্লির আপ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক লাভের জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহার করেছে এবং দিল্লি আম আদমি পার্টির সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে কংগ্রেস বিজেপির অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারকে উৎখাত করার প্রচেষ্টায় সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি যখন প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল তখন কংগ্রেস সেই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় এবং কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারির দাবি জানায়। বিজয়নের অভিযোগ, ২০২২ সালের জুন মাসে দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি আবগারি নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
শুক্রবার দিল্লির আদালতে বিচারপতি জিতেন্দ্র সিং কেজরিওয়াল, সিসোদিয়া এবং আরও ২১ জনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতির রায় শুনিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, এই মামলায় যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে তথ্যের সাযুজ্য নেই। চার্জশিটে অনেক ত্রুটি রয়েছে। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ না থাকার কারণে অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
আদালতের রায়ে অব্যাহতি পাওয়ার পর কেজরীওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, শেষ কয়েক বছর ধরে বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে দিল্লি আবগারি নীতি নিয়ে লাগাতার অভিযোগ এনেছে। আজ আদালত সেই সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে এবং আমাদের পাঁচজন বড়ো নেতাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি চ্যানেল প্রচার করেছে, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলেছে। কেজরীওয়াল দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। আমি শুধুমাত্র সততা অর্জন করেছি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন