

কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পর সোমবার আবারও অশোকা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদের গ্রেপ্তারির নিন্দা করলো করলো কংগ্রেস। সোমবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অধ্যাপকের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই গ্রেপ্তারিই প্রমাণ করে যে বিজেপি কোনো বিরুদ্ধ মতের নিয়ে কতখানি ভীত।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোষ্টে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে বলেন, জাতীয় স্বার্থ যখন সর্বোচ্চ স্থানে থাকে, তখন সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকারকে সমর্থন করার অর্থ এই নয় যে আমরা সরকারকে কোনও প্রশ্ন করতে পারি না।
অধ্যাপকের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে এদিন কংগ্রেস সভাপতি বলেন, সরকারি বা রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনওভাবে যে কোনো চরিত্রহনন, অপমান, ট্রোলিং, হয়রানি, যে কোনও ব্যক্তির বেআইনি গ্রেপ্তার এবং যে কোনো ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ভাঙচুরের নিন্দা করে কংগ্রেস।
নিজের এক্স হ্যান্ডেল পোষ্টে খাড়গে এদিন বলেন, অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদের গ্রেপ্তার দেখায় যে বিজেপি তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করা যে কোনও মতামতকে কতটা ভয় পায়।
তিনি ওই পোষ্টে লিখেছেন, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দেশের সশস্ত্র বাহিনী, আমলা, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের শহীদ নৌসেনা আধিকারিকের শোকাহত বিধবা স্ত্রী, আমাদের পররাষ্ট্র সচিব এবং তার মেয়েকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া প্রতিক্রিয়ার পরে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে একজন কর্মরত কর্নেলের জন্য একজন বিজেপি মন্ত্রীর করা নিন্দনীয় অবমাননাকর মন্তব্যের পরে এই লাগাতার আক্রমণ শুরু হয়েছে।
খাড়গে লিখেছেন, আমাদের বীর সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে জঘন্য মন্তব্য করা মধ্যপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার পরিবর্তে, বিজেপি-আরএসএস এমন একটি বিবরণ দিতে আগ্রহী যে বহুত্ববাদের প্রতিনিধিত্বকারী, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা জাতির সেবায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী যে কেউ তার অস্তিত্বের জন্য ভয়ের কারণ।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের কাছে সবার আগে জাতীয় ঐক্য, বিজেপির এমন কোনও ধারণা থাকা উচিত নয় যে তারা উন্নয়নের আড়ালে একনায়কতন্ত্রকে লালনপালন করতে পারে। গণতন্ত্রকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেই হবে।
‘অপারেশান সিঁদুর’ সম্পর্কিত এক সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টের পর দুটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে গত রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে। যার মধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন হরিয়ানা মহিলা কমিশনের পক্ষে চেয়ারপার্সন রেণু ভাটিয়া এবং অন্য এফআইআর করেন স্থানীয় এক গ্রামের সরপঞ্চ ও বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক জোগেশ জাঠেদি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন