“আমাকে অনশন ভাঙার কথা বলবেন না। সরকারকে জিজ্ঞেস করুন, কেন তারা আলোচনাতেও বসছে না।” নয়াদিল্লীতে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের এই বক্তব্য প্রকাশ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। ১৪ জুলাই সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) তিনি এই বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
গতকালই যন্তর মন্তরে সিজেপি-র ডাকে ২৪ দিন ধরে চলা অবস্থান বিক্ষোভ এবং অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানান দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নাসিরুদ্দিন শাহ, জয়তী ঘোষ, রত্না পাঠক শাহ, অরুন্ধতী রায়েদের পক্ষ সোমবার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এই বার্তা দেওয়া হয়। নীট প্রশ্নপত্র ফাঁস কান্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এখানেই গত ১৭ দিন ধরে অনশন করছেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক সহ আরও কয়েকজন। মঙ্গলবার এই বিক্ষোভ আন্দোলন ২৫ দিনে পা দিয়েছে।
বিশিষ্টদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সারা দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবদের জন্য যে আন্দোলনে আপনারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার উদ্দেশ্য, দৃঢ় সংকল্প এবং সাহসিকতাকে আমরা স্যালুট জানাই। সামনের দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের স্বার্থে আমরা আপনাদের কাছে অবিলম্বে এই অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা অনুরোধ করছি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই লড়াই একটি ম্যারাথন লড়াই, কোনও স্প্রিন্ট ইভেন্ট নয়। আগামী দিনে আপনাদের শক্তি, আপনাদের নেতৃত্বের প্রয়োজন আমাদের। আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনাদের দাবির প্রতি সরকারের সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতা অনেকের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যকে আরও খারাপ করে তুলবে।
সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অনশন শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত সোনম ওইয়াংচুকের ওজন কমেছে ৮.২ কিলোগ্রাম। তাঁর রক্তচাপ এখন ১০৭/৭০এমএমএইচজি এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৬৭ এমজি/ডিএল।
নিট পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ২০ জুন থেকে এই বিক্ষোভ চলছে। এই অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সঙ্গেই অনশনরত ছাত্র দীপককে গতকাল শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন