

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক ছাত্রকে নোটিশ পাঠানোর কারণে সাসপেন্ড হলেন দ্য গ্রেটার নয়ডার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party – CJP) আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে (Akshat Tripathi) নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৩০ অনুসারে এই ছাত্রকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে ওই ছাত্রকে আন্দোলনে যোগ দেবার কারণ দর্শানোর পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেবার কথা জানানো হয়েছিল। নোটিশে আরও বলা হয়েছিল ওই ছাত্র, ‘সরকার বিরোধী বিভ্রান্তিকর কথা’ বলেছিলেন।
গত জুলাই মাসের ছাত্র বিক্ষোভ সম্পর্কিত অন্যান্য মামলার শুনানির সময় বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট পি ভি দীনেশ এবং বেঞ্চকে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান।
আইনজীবীর আবেদনের উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, গতকালই এই বিষয়টি উত্থাপিত হবার পরে তিনি এই বিষয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। এরপরেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বেঞ্চের সামনে জানান, ওই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন অনুসারে, ইকো ফার্স্ট থানার এক সাব ইন্সপেক্টরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অক্ষত ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে ওই নোটিশ জারি করা হয়। যেখানে অভিযোগ করা হয় সিজেপি-র ধর্নায় যোগদান করাতে ত্রিপাঠী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকার বিরোধী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়েছিল এবং উস্কানি দিচ্ছিল। নোটিশে আরও দাবী করা হয় যে এর ফলে শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল এবং যার ফলে শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবার আশঙ্কা ছিল।
ত্রিপাঠীর পক্ষ থেকে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতের কাছে করা আবেদনে বলা হয়, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এই নির্দেশ সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের আদেশের লঙ্ঘন। গত ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ছাত্রদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত এফআইআর বাতিল করার। নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপের। ত্রিপাঠী জানান, সিজেপি আন্দোলনের জন্য জনমত তৈরি করা ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(এ) অনুসারে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ১৯(১)(বি)-র অধীন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত। এছাড়াও তাকে ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড দিতে বলা এবং সমপরিমাণ অর্থের দু’জন জামিনদার দিতে বলা সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন