

২০১৭ সালের পর দীর্ঘ ৮ বছর বাদে ১৫ জানুয়ারি হতে চলেছে মহারাষ্ট্রের বৃহণমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) নির্বাচন। যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মাত্র ৪ দিন আগে রবিবার প্রকাশিত হয়েছে ক্ষমতাসীন মহাযুতির নির্বাচনী ইস্তেহার। যে ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও উঠে এসেছে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা তত্ব।
ইশতেহার প্রকাশ করতে গিয়ে রবিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ দাবি করেছেন, আইআইটি-র সাহায্য নিয়ে তাঁরা এমন এক এআই টুল তৈরি করবেন যার মাধ্যমে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা চিহ্নিত করা যাবে। পশ্চিমবঙ্গ হোক, অথবা বিহার কিংবা মহারাষ্ট্র – ইদানিং ভোটের মুখে বিজেপি নেতৃত্বের মুখে বারবার বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা ইস্যু ঘুরে ফিরে আসে।
এদিন ইশতেহার প্রকাশ করতে গিয়ে ফড়ববীশ জানিয়েছেন, মুম্বাইকে তাঁরা বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মুক্ত করবেন। এদিন তিনি দাবি করেন মহারাষ্ট্রে সবথেকে বেশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের উত্তরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। দেবেন্দ্র ফড়নবীশের বাংলাদেশি মন্তব্যের পরেই কংগ্রেস দাবি করেছে, আপনি মহারাষ্ট্রে অবৈধ ভাবে বসবাসকারীদের সংখ্যা প্রকাশ করুন। এক বিবৃতিতে মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের মুখপাত্র শচীন সাওয়ন্ত বলেন, যদি সত্যিই সরকার সর্বাধিক সংখ্যায় অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে থাকে তাহলে সেই সংখ্যা প্রকাশ করুক।
রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি প্রসঙ্গ ছাড়াও এদিন ইশতেহার প্রকাশ করতে গিয়ে ফড়নবীশ বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাপানি সহায়তায় এবং জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি ‘বন্যা মুক্ত মুম্বাই’ তৈরি করবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শচীন সাওয়ন্ত বলেন, কঠোর বাস্তবকে অস্বীকার করে ফড়নবীশ প্রতিশ্রুতি দেন। মুখ্যমন্ত্রী তার সাক্ষাৎকারে আগামীদিনের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। আমরা জানতে চাই তার পূর্ব ঘোষিত পরিকল্পনাগুলির কী হল? তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালেও ফড়নবীশ বন্যা মুক্ত মুম্বাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন ২০১৭ সালেই দ্য ইস্টার্ন ফ্রিওয়েজ থানের সাথে সংযুক্ত হয়ে যাবে। যা আজও হয়নি। ইনি শুধু ‘তারিখ পে তারিখ’ করে যান। এর থেকেই বোঝা যায় সরকার কীভাবে চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ মাসে বৃহণমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ওবিসি কোটা নিয়ে বিবাদ, ডিলিমিটেশন নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মামলার কারণে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি দেশের সবথেকে অর্থবান মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে। নির্ধারিত সময়ের ৩৪ মাস পরে এবার হতে চলেছে যে নির্বাচন। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন