Maharashtra: নোটা থাকতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় কীভাবে? ৬৮ প্রার্থীর জয় নিয়ে প্রশ্ন উদ্ধব সেনার

People's Reporter: ৬৮ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জন থানের। যার মধ্যে বিজেপি প্রার্থী ২০ জন, শিবসেনা একনাথ শিন্ধে গোষ্ঠীর ১২ জন। কল্যাণের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১৪ এবং ৬।
নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনফাইল ছবি সংগৃহীত
Published on

বারবার কীভাবে শাসক দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছে? মহারাষ্ট্রের ঘটনায় এই প্রশ্ন উঠলো বিরোধীদের পক্ষ থেকে। আগামী ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে ২৯টি পুরসভায় নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইতিমধ্যেই ৬৮ আসনে শাসক মহাযুতি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যার মধ্যে বিজেপি জয়ী হয়েছে ৪৪ আসনে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

রাজ্যে পুর নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনেই শাসক জোটের ৬৮ প্রার্থীর জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন থানের শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান কেদার দিঘে। রবিবার তিনি বলেন, কীভাবে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়? যদি এই ধরণের কোনও ঘটনা ঘটেই থাকে তাহলে বিরোধী প্রার্থীদেরও তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, ৬৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই থানে জেলার। যার মধ্যে বিজেপি প্রার্থী ২০ জন, শিবসেনা একনাথ শিন্ধে গোষ্ঠীর ১২ জন। কল্যাণের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১৪ এবং ৬।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে গুরুতর প্রশ্ন তুলে শিবসেনা নেতা দিঘে জানিয়েছেন, কোনও কেন্দ্রে যদি একজনই প্রার্থী থাকে সেক্ষেত্রেও ইভিএম-এ নোটা থাকে। তাহলে কীভাবে কোনও প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যেতে পারে? এভাবে নাগরিকদের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিষয়টি নিয়ে দল আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

তবে এবারই প্রথম নয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনার দীনেশ ওয়াগমারেকে লেখা চিঠিতে এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছিলেন, ক্ষমতার লোভের কারণে স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন গুরুতর বিষয় এবং গণতন্ত্রে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। যদিও বর্তমানে তা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে না। তাই আমি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের আমার উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এর আগে মহারাষ্ট্রের নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়েও শতাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। যা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সুপ্রিয়া সুলে।

এরও আগে দাদরা ও নগর হাভেলী এবং দমন ও দিউ-র স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন নিয়েও একই ধরণের অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস। সেবার বিজেপির বিরুদ্ধে ‘নির্বাচন ছিনতাই’ (Hijacking) করার অভিযোগ এনেছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল বিরোধীদের ৮০ শতাংশ মনোনয়ন পত্র পরীক্ষার সময় কোনও কারণ না দেখিয়ে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপির কোনও মনোনয়ন পত্র খারিজ করা হয়নি। ফলে শাসকদলের প্রার্থীরা সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এই ঘটনায় বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস।

নির্বাচন কমিশন
Maharashtra: শাসক মহাযুতি জোটের ৬৮ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, তদন্তের নির্দেশ কমিশনের
নির্বাচন কমিশন
মহারাষ্ট্রে ভোটের আগেই ৬৮ আসনে জয় শাসক মহাযুতির, 'ভয় দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার' - দাবি উদ্ধব শিবিরের

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in