

মহারাষ্ট্রের ২৯ পুরসভার নির্বাচনে শাসক মহাযুতির ৬৮ জন প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার খবরে নড়েচড়ে বসলো নির্বাচন কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাবার পরেই দেখা যায় বিভিন্ন পুরসভার ৬৮ আসনে শাসক মহাযুতির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যার মধ্যে ৪৪ জনই বিজেপি প্রার্থী এবং ২২ জন একনাথ শিন্ধের শিবসেনা প্রার্থী। এরপরেই এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মহারাষ্ট্র নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তদন্ত শেষ হবে ততক্ষণ ওই প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা যাবে না। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ তদন্ত করে দেখা হবে। প্রসঙ্গত, গতকালই বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে বহু জায়গাতেই প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে এবং টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হয়েছে।
পুরসভাগুলির মধ্যে কল্যাণ ডোম্ভিবলি পুরসভায় সবথেকে বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার ঘটনা ঘটেছে। এই পুরসভায় বিজেপি এবং একনাথ শিন্ধের শিবসেনা যথাক্রমে ১৫ এবং ৬ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এই পুরসভায় মোট আসনের সংখ্যা ১২২। শেষবার এই পুরসভায় নির্বাচন হয়েছিল ২০১৫ সালে এবং সেবার অবিভক্ত শিবসেনা পেয়েছিল ৫২ আসন, বিজেপি ৪২ আসন, এমএনএস ৯ আসনে, কংগ্রেস ৪ আসন, এনসিপি (অবিভক্ত) ২ আসন, মিম ৪ আসন এবং বিএসপি ১ আসন। ৭ আসনে জয়ী হয়েছিল অন্যান্যরা।
জানা গেছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই বিতর্কের মাঝেই আম আদমি পার্টির এক প্রার্থী কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছেন, কমিশনের আধিকারিকরা বিজেপি প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। এছাড়াও কংগ্রেস এবং জনতা দল (এস)-এর পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও বহু জায়গা থেকেই রিটার্নিং অফিসারকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন শিবসেনা ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউথও।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ঘটনায় এক নির্বাচনী আধিকারিক বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যেখানে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেখানে এভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনা বিস্ময়কর। যদিও তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু মনোনয়নের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে তাই এক্ষেত্রে খুব একটা কিছু করার নেই। খুব বেশি হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সোলাপুরের এমএনএস নেতা প্রশান্ত ইংলে বিজেপি বিধায়ক বিজয় দেশমুখ এবং তাঁর ছেলে কিরণ দেশমুখের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। এমএনএস নেতার অভিযোগ, এঁরা ভয় দেখিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিয়েছে। এবিপি মাঝার প্রতিবেদন অনুসারে, প্রশান্ত ইংলের অভিযোগ, মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার ছাত্র সংগঠন এমএনএস বিদ্যার্থী সেনার সভাপতি বালাসাহেব সারবাদের হত্যার সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব জড়িত। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাবার পর দুই পক্ষের সংঘর্ষে বালাসাহেব সারবাদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা বিজেপি অফিসে ভাঙচুর চালায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন