

বিহারের জামুইতে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। প্রকাশ্যে ঘটা এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রায় সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালেও বিজেপি-জেডিইউ শাসিত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এখনও এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। যদিও রাজ্যের মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার জানিয়েছেন, এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেই থাকে। পৃথিবীতে অপরাধ শেষ হয়ে যায়নি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন, “বিহারের জামুই থেকে আসা একটি ভিডিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দশম শ্রেণীর এক ছাত্র ও ছাত্রীকে রাস্তায় জোর করে থামানো হয়। তাদের হয়রানি ও অপমান করা হয় এবং মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। মেয়েটি হাতজোড় করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করে, কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা তাকে স্পর্শ করতে ও টানতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “এদের এমন অশালীন আচরণ করার অধিকার কে দিয়েছে? এটা “সংস্কৃতি” নয়, এটা পিতৃতন্ত্র: এই ধারণা যে, যেকোনো পুরুষের একটি মেয়ের শরীর, তার চলাফেরা এবং তার পছন্দ-অপছন্দের ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যখন “অন্ধ অনুসারীরা” নিয়ন্ত্রণকে সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করে এই ধরনের চিন্তাভাবনাকে স্বাভাবিক করে তোলে, তখন জনতা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তারাই আইন।”
দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ওই ভিডিওতে দেখা প্রত্যেককে অবশ্যই শনাক্ত করতে হবে এবং অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব পকসো (POCSO) আইনে বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। আর এই ঘটনাটি যদি ১৯শে সেপ্টেম্বর ঘটে থাকে, তবে অপরাধীরা এখনও কারাগারে নেই কেন? আর বিহার সরকারের জবাব দেওয়া উচিত, কেন সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের রাস্তায় কোনো মেয়ে নিরাপদ নয়?”
জামুইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বিহারে ইতিমধ্যেই নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে এখন কোনো নারী বা ছাত্রীই কোনো সময়ে বা কোনো স্থানে নিরাপদ নন। দুষ্কৃতকারী ও অপরাধীরা এখন দিনের আলোতেই অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে স্কুল, কলেজ ও মানুষের বাড়িতে অবাধে ঢুকে পড়ছে।”
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী—যিনি নির্বাচনের পর নারীদের ১০ হাজার টাকা নগদ এবং আরও ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—তিনি এখন এসব ঘটনার বিষয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এনডিএ সরকারের আমলে নারী, শিক্ষার্থী, দরিদ্র ও দলিতদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি আর বলেন, “বিহারের সরকারি কোষাগার লুট করে এবং ২ লক্ষ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের বিভ্রান্ত করার পর, মাত্র চার মাসের মধ্যেই শ্রী নীতীশ কুমার তাঁর সবকিছু গুটিয়ে নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।”
তেজস্বী জানিয়েছেন, “বিধানসভা নির্বাচনের শেষ ৩৫ দিনে অসুস্থ এক মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে বিহারের কোষাগার থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিলিয়ে এবং সরকারি যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জয়লাভের পর, অহংকারে মত্ত বিজেপির শীর্ষ দুই নেতা বিহারের শাসনভার এক অনভিজ্ঞের হাতে তুলে দিয়েছেন—অজানা কোন অপরাধের জন্য তাঁরা বিহারের ওপর এমন প্রতিশোধ নিচ্ছেন?”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর অভিযোগ, “বিহারের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একমাত্র দায়ী ব্যক্তি হলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি এবং তাদের তোষামোদকারী দলগুলোর এসব ঘটনায় বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই।”
জামুইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে বিহার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে সিট। ঘটনার ভিডিও দেখে তিন নাবালককে আটক করা হয়েছে। যেহেতু এই ঘটনা দু’জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে কেন্দ্র করে ঘটেছে তাই যারা এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার যে ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি পিপলস রিপোর্টার) তাতে দেখা গেছে এক কিশোরী এবং তাঁর বন্ধুর পথ আটকে দাঁড়ায় কয়েকজন। এরপরেই ওই কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে শুরু করে অভিযুক্তরা। একজনকে দেখা যায় কিশোরীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করতে। অন্য আর এক যুবক কিশোরীকে তুলে নিয়ে দৌড়তে থাকেন। যদিও পরে কিশোর কিশোরীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের চলে যেতে দেখা যায়।
জানা গেছে, হেনস্থার শিকার কিশোর ও কিশোরী, দুজনেই জামুইয়ের বাসিন্দা। দশম শ্রেণির এই দুই ছাত্র ছাত্রী গত শনিবার টিউশনের পরে স্থানীয় এক পাহাড়ে ঘুরতে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথেই তাদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন