রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনতা দল (ইউনাইটেড)-এ যোগ দিলেন বিহারের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমার। গত ৫ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমার মনোনয়ন জমা দেবার তিন দিনের মাথায় তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমার এদিন জেডিইউ-তে যোগ দেন। বিহারের রাজনৈতিক মহলের মতে নিজে বিহারের ক্ষমতার ব্যাটন ছেড়ে তা ছেলের হাতে তুলে দিলেন নীতিশ কুমার।
যদিও এখনও পর্যন্ত বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিশ্চিত হয়নি। বিজেপির সম্রাট চৌধুরীর দিকেই পাল্লা ভারী বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা নীতিশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে উপ মুখ্যমন্ত্রী পদ দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা না হলেও নীতিশ কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জেডিইউ বিধায়ক হরি নারায়ণ সিং সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন জেডিইউ সর্বসম্মতিক্রমে নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিন জেডিইউ-তে যোগ দিয়ে নিশান্ত কুমার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা সকলে আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন, আমি তা পূরণ করার চেষ্টা করব। গত ২০ বছরে আমার বাবা বিহারের জন্য যা করেছেন, তাতে আমি, সমগ্র বিহার এবং সমগ্র দেশ গর্বিত।”
জেডিইউ বিধায়ক হরি নারায়ণ সিং জানিয়েছেন, আগামী মাসে বিহার বিধান পরিষদে নিশান্ত কুমার নির্বাচিত হবেন। সাংবিধানিক পদ গ্রহণের জন্য তাকে আইনসভার নির্বাচিত সদস্য হতে হবে। নীতিশ কুমারের বাসভবনে এক বৈঠক থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগেই জেডি(ইউ)-এর জাতীয় কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা জানিয়েছিলেন, রবিবার দুপুর ১টায় নিশান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেবেন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করার জন্য দলের যুব বিধায়ক এবং এমএলসিদের সাথে বৈঠক করে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করবেন।
টানা পঞ্চম মেয়াদে শপথ নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে নীতিশ কুমারের পদত্যাগ অনেককে হতবাক করেছে। জেডিইউ কর্মীরা নীতিশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে বিহার জুড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
বিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বিজেপির চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন নীতিশ কুমার। রাজ্যের একাধিক বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, নীতীশ কুমারকে জোর করে বিহার থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের চাপে তিনি রাজ্য ছেড়ে দিল্লিতে যাচ্ছেন।
একটানা দশম বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের রেকর্ড করার মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাঁকে কিছুটা বাধ্য হয়েই পদ ছাড়তে হল বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের। যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছিল শপথগ্রহণের সময়েই। যখন মন্ত্রীসভার ভাগ বাঁটোয়ারায় তাঁর হাত থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কেড়ে নেওয়া হয়। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ৮৫ আসন পেলেও আগামী দিনে জেডি(ইউ)-এর ভবিষ্যৎ কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেছে বিহারের রাজনীতিতে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন