

বিহারের মধুবনী জেলার ঘোগারডিহার আমহি গ্রামে জনতার আক্রমণে আহত হয়ে মৃত্যু হল রোশন খাতুন নামক এক মুসলিম মহিলার। গ্রাম্য বিরোধ মেটানোর জন্য গ্রামপ্রধানের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তাঁকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর ওপর হামলা এবং গত ১ মার্চ পাটনা মেডিকেল কলেজে আক্রান্ত মহিলার মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জেরে পুলিশ স্থানীয় গ্রামপ্রধানের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
দ্য কুইন্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, আমহি গ্রামের গ্রাম প্রধানের ছেলে মনু সিং এবং তাঁর সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তি রোশন খাতুনকে লাঞ্ছিত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুসারে, স্থানীয় বিরোধ মেটাতে গ্রাম প্রধানের কাছে গেলে তাঁকে খুঁটির সাথে বেঁধে মারধোর করা হয়। এই সময় তিনি উপবাসে ছিলেন বলেও জানিয়েছে ওই প্রতিবেদন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুসারে, ওই মহিলা স্থানীয় আইন শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিকার চেয়ে গ্রাম প্রধানের কাছে গেছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ শোনার বদলে কিছু ব্যক্তি তাঁকে মারধোর করতে শুরু করে। এই ঘটনা গোটা গ্রামের কাছে বেদনাদায়ক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন ওই মহিলাকে মারধোর করার সময় তিনি জল চাইলে পরিবর্তে তাঁকে মদ এবং প্রস্রাবের মিশ্রণ খেতে বাধ্য করা হয়। যদিও পুলিশ এই বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। তথ্য সংগ্রহ চলছে। উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে দুই অভিযুক্তের নাম মগনু সিং এবং দীনেশ সিং।
ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে এফআইআর দায়ের করেছে এবং গ্রাম প্রধানের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। গ্রামে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্তদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদন্ডের দাবি করেছেন নিহতের স্বামী।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মানসুরি সমাজের রাজ্য সভাপতি অজয় মানসুরি জানিয়েছেন, আমরা সমস্ত দোষীদের ফাঁসির দাবি জানাই এবং ওই মহিলাকে বিচার দেবার জন্য আমরা লড়াই চালাবো।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ ডঃ সৈয়দ নাসের হুসেন এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) জানিয়েছেন, “এনডিএ সরকারের অধীনে বিহারের এই অবস্থা। গ্রাম কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসা একজন নাগরিককে হিংসা, অপমান এবং জনতার বর্বরতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।… বারবার বিহার সরকারের সুশাসনের দাবি এবং বাস্তবের মধ্যের ব্যবধান ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”
তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনাটি মোদী শাসনকালে দেশের অনেক অংশে নারী ও সংখ্যালঘুদের যে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে তা বোঝা যায়। রমজান পালনকারী একজন মহিলার উপর হামলা, তার সাথে তাকে প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করার মত অবমাননাকর কাজ, এমন একটি পরিবেশকে প্রতিফলিত করে যেখানে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা এবং ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে নীরবতা অবলম্বন করা হয়। কোনও সভ্য সমাজ এই ধরনের নিষ্ঠুরতা এবং অসম্মান সহ্য করতে পারে না। আমরা এই বর্বর কাজের তীব্র নিন্দা জানাই। ভারতে এই ধরনের বর্বরতার কোনও স্থান নেই।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন