

শনিবার দিল্লীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকের ওপরে কালি ছোঁড়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তের পরিচয় সামনে এলো। বরখা ত্রেহান নামের এক মহিলা গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানে যান এবং সেখানে বক্তব্যরত অভিজিতের ওপর কালি ছোঁড়েন। পরে তাঁকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শোনা যায়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যন্তর মন্তরে ধর্ষক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের সমর্থনে ধর্না দিয়ে তিনি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন।
নিজেকে ‘পুরুষ অধিকার কর্মী’ এবং ‘কট্টর হিন্দু’ বলে দাবি করা বরখা নামক এক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। ‘মোদী পরিবারের একজন’ হিসেবে দাবি করা এই সমাজকর্মীকে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দিল্লীর যন্তর মন্তরে ধর্ষক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে সমর্থন করে ধর্না দিতে দেখা গেছিল। বর্তমানে বহিষ্কৃত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার উন্নাও ধর্ষণের মামলায় দোষী প্রমাণিত হয়ে আপাতত কারাগারে আছেন।
গত কয়েক বছর ধরেই বরখা ত্রেহানকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিভিন্ন ট্যুইটও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেও তিনি প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বরও তিনি কুলদীপ সিং সেঙ্গারের সমর্থনে ধর্না কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিলেন।
শনিবার সকালে যন্তর মন্তর থেকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর দুপুর ১টা ২০ নাগাদ অবস্থান স্থলে ভাষণ দিচ্ছিলেন অভিজিৎ দীপকে। ভাষণের সময় তিনি সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, পুলিশের পদক্ষেপ যদি ন্যায্যই হতো, তবে তারা কেন ইউনিফর্ম পরে সেখানে উপস্থিত হয়নি। এই সময়েই অভিজিৎ দীপকের কাছে গিয়ে তাঁর গায়ে কালি ছিটিয়ে দেন বরখা ত্রেহান।
পুলিশ সূত্র অনুসারে, ঘটনার পরেই সিজেপি সমর্থকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে মঞ্চ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর সিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাঁকে মারধোর করেছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
কালি ছেটানোর সমর্থনে ত্রেহান দাবি করেন, তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বিরোধী নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, সিজেপি-র এই অবস্থান বিক্ষোভের সঙ্গে ‘নিট’ (NEET) ইস্যুর খুব একটা সম্পর্ক নেই; এই অবস্থান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গতকালের ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “হ্যাঁ, আমি বরখা ত্রেহান—সেই নারী যিনি ওই উগ্র ‘আরবান নকশাল’ অভিজিৎ দীপকের গায়ে কালি ছুড়েছিলাম। কারণ, তাঁর 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র মঞ্চে যখন আমার প্রভু শ্রীরামজিকে অপমান করা হচ্ছিল, তখন তিনি হাসছিলেন। আমি একজন কট্টর হিন্দু। আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। এটি ছিল আমার প্রতিবাদ এবং আমি এর জন্য গর্বিত। জয় হিন্দ। জয় শ্রীরাম।"