

বিহারের বাঁকিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা জানা যাবে সোমবার ৩ আগস্ট। যদিও এই ফলাফল নিয়ে ভোটের পর থেকেই উত্তেজনা চরমে। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রের বুথ ফেরত সমীক্ষায় যে ইঙ্গিত উঠে এসেছে তার পরেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল বেড়েছে এই কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া কেন্দ্রে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ২৫ জন। যার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জন সূরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর।
বাঁকিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মোট ২৫ জন প্রার্থী থাকলেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহা, জন সূরজ প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর এবং আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তার মধ্যে। এখনও পর্যন্ত এই তিন দলই তাদের প্রার্থীর বিজয় দাবি করলেও বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল অনুসারে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। এই বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল যদি সত্যি হয় তাহলে বিহারে তা হবে বিজেপির পক্ষে চরমতম ধাক্কা।
এখনও পর্যন্ত বাঁকিপুর কেন্দ্রের যে তিনটি বুথ ফেরত সমীক্ষা সামনে এসেছে তার সবকটিতেই প্রশান্ত কিশোর জয়ী হচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়েছে। পোলস-এর বুথ ফেরত সমীক্ষার হিসেব অনুসারে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি পেতে পারেন ৪৯ থেকে ৫২ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেতে পারে ৩৪ থেকে ৩৬ শতাংশ এবং আরজেডি পেতে পারে ৯ থেকে ১১ শতাংশ ভোট।
দ্বিতীয় সংস্থা ডিভি রিসার্চ তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলে জানিয়েছে প্রশান্ত কিশোর পেতে চলেছেন ৪৩ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেতে পারে ৩৯ শতাংশ ভোট। আরজেডি পেতে পারে ১৫ শতাংশ ভোট বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।
তৃতীয় সংস্থা পোল পণ্ডিত তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলে জানিয়েছে, প্রশান্ত কিশোর পেতে চলেছেন ৫০ থেকে ৫৪ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেতে পারে ৩৮ থেকে ৪২ শতাংশ এবং আর জেডি পেতে পারে ৫ শতাংশ।
যদিও এই বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজী হননি প্রশান্ত কিশোর। বিজেপির সূত্র অনুসারে দাবি করা হয়েছে কম সংখ্যক ভোট পড়ায় লাভবান হবে বিজেপি। অন্যদিকে আরজেডির-ও এই কেন্দ্রে নিজস্ব একটা ভোট ব্যাঙ্ক আছে। তাই ফলাফল শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যাবে তার জন্য সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে যদি বুথ ফেরত সমীক্ষার হিসেব মত সত্যিই এই কেন্দ্রে প্রশান্ত কিশোর জয়লাভ করেন সেক্ষেত্রে বিজেপির পক্ষে তা হবে এক চরম ধাক্কা।
এমনিতেই বিহারের ভোটারদের একটা বড়ো অংশ নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ। তাছাড়াও যন্তর মন্তরের সাম্প্রতিক জেন জি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও ভালো সাড়া পড়েছিল বিহারে। যার প্রভাব এই ভোটে পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল সম্পূর্ণ মিলে গেলেও আশ্চর্য হবার মত কিছু নেই বলেই তাদের অভিমত।
২০২৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ৪১.৩৯ শতাংশ ভোট পড়লেও উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে মাত্র ৩৪.০৩ শতাংশ। অর্থাৎ ভোটদানের হার কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী নীতিন নবীন ৫১,৯৩৬ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। এই কেন্দ্রের আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা পেয়েছিলেন ৪৬,৩৬৩ ভোট এবং জন সূরজ পার্টির বন্দনা কুমারী পেয়েছিলেন ৭,৭১৭ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯৮,২৯৯ ভোট। মোট ভোট দিয়েছিলেন ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৮৫ জন।
উল্লেখযোগ্যভাবে ১৯৯৫ সাল থেকে এই কেন্দ্রে কখনও পরাজিত হয়নি বিজেপি। অতীতের পাটনা পশ্চিম কেন্দ্র ২০০৮ সাল থেকে বাঁকিপুর কেন্দ্রে পরিণত হয়। তবে এবারই প্রথম নয়। অতীতেও এই কেন্দ্রে কম ভোটদানের নজির রয়েছে। বিশেষ করে নীতিন নবীনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালের ২৪ এপ্রিল এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোট পড়েছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। তথ্য বলছে আজ পর্যন্ত কখনও বাঁকিপুর কেন্দ্রের দ্বিতীয় স্থানাধিকারী প্রার্থী ৫০ হাজার ভোটের অঙ্ক পেরোতে পারেননি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন