বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের রোষের মুখে আহমেদাবাদের সুশীল সমাজের সদস্যরা। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের লেখা বই পাঠ করায় সুশীল সমাজের সদস্যদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ২০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার। আহমেদাবাদের বস্ত্রাপুরের আউডা (AUDA) গার্ডেনে, সুশীল সমাজের সদস্যরা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কিছু বই পড়ার জন্য সমবেত হয়েছিলেন। এই তালিকায় অ্যানা ফ্রাঙ্কের 'দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল' এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের 'আই অ্যাম মালালা'-র মতো বই ছাড়াও বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরুর লেখা বইও ছিল।
দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সদস্যদের চাপে স্থানীয় একটি স্কুল থেকে মালালা ইউসুফজাইয়ের বই সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত এই কর্মসূচীর আয়োজন করেছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। পড়ার স্বাধীনতার সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মসূচীতে সুশীল সমাজের সদস্যরা ছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।
বই পড়ার কর্মসূচী চলাকালীন প্রায় ৪০ জন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। বজরং দলের কোঅর্ডিনেটর জ্বলিত মেহতা এই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, ইউসুফজাইয়ের মতো 'দেশবিরোধী'দের প্রচারকারী যেকোনো মঞ্চের বিরুদ্ধে তার সংগঠন সক্রিয়ভাবে রুখে দাঁড়াবে। তারা পাঠকদের ‘কাশ্মীর-বিরোধী’ (অর্থাৎ জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক সরকারি নীতির বিরোধী) বলে অভিহিত করেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তা জয়কুমার ঠক্কর এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা গেরুয়া উত্তরীয় পরে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং কর্মসূচীতে বাধা দেন। এই সংঘাত দ্রুত শারীরিক হিংসায় রূপ নেয়। লাঠি হাতে আক্রমণকারীরা পাঠকদের ওপর চড়াও হয় এবং বেশ কয়েকজন পাঠক আহত হন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মহিলাদেরও লাঞ্ছিত করা ও হুমকি দেওয়া হয়।
সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ওই দুটি বইয়ের পক্ষ নিয়ে বলা হয়েছে, ‘আই অ্যাম মালালা’ (I Am Malala) হলো মালালা ইউসুফজাইয়ের লেখা তাঁর নিজের জীবনের সেই আখ্যান, যেখানে তিনি মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকারের পক্ষে তাঁর আন্দোলনের কথা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, ‘দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল’ (The Diary of a Young Girl) বইটিতে নাৎসিদের হাতে ইহুদিদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হলোকস্টের সময়কার অ্যান ফ্রাঙ্কের অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে। এসওয়াইসিএ (SYCA)-র যুক্তি, এই বই দুটিকে ‘আপত্তিকর’ হিসেবে গণ্য করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এই ঘটনায় দু’জন নাম-পরিচয় জানা ব্যক্তি এবং ১৮ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ এবং এবং সাক্ষীদের বয়ান খতিয়ে দেখছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন: “সাম্প্রদায়িকতার মিশ্রণযুক্ত অজ্ঞতা হলো এক দুরারোগ্য ব্যাধি।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন