রাম মন্দিরের অনুদান ও অলঙ্কার চুরির ঘটনা সামনে আসার পর অভিযোগ উঠেছিল বদ্রীনাথ মন্দিরের অনুদান নিয়েও। এবার সেই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল শ্রী বদ্রীনাথ কেদারনাথ মন্দির কমিটির বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী প্রমোদ নটিয়াল। রবিবার রাতে উত্তরাখন্ড পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্র অনুসারে, মন্দির কমিটির বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী প্রমোদ নটিয়াল আগে মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। গতকাল রাতে তাঁকে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে বদ্রীনাথে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানেই তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গত মঙ্গলবার রাতে নটিয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল পুলিশ।
রাম মন্দিরের অনুদান ও অলঙ্কার চুরির ঘটনা সামনে আসার পর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বদ্রীনাথ মন্দিরেও অনুদান চুরির অভিযোগ ওঠে। ভৈরব সেনা নামক এক সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটিকে যে চিঠি দিয়ে দাবি করা হয় মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর আগেই তারা এই বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জানালেও, তিনি বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।
এই অভিযোগ ওঠার পর মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, বদ্রীনাথ ধার্মিক ভাবনার কেন্দ্র। কিন্তু কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাইছে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামীর সরকার এবং তাঁর বদনাম করতে চাইছে।
যদিও এর পরেই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়। কমিটির পক্ষ থেকে তদন্তের জন্য চার সদস্যের এক দল গঠিত হয়। পাশাপাশি উত্তরাখন্ড সরকারের পক্ষ থেকে গাড়োয়াল বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্যানেল গঠন করা হয়। সাসপেন্ড করা হয় কমিটির কর্মী প্রমোদ নটিয়ালকে।
বিকেটিসি-র চার সদস্যের তদন্তকারী দল প্রাথমিক তদন্তের পর প্রমোদ নটিয়ালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরেই তৎপর হয় পুলিশ এবং রবিবার গভীর রাতে দেরাদুনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ট্রাষ্টের কর্মী প্রমোদ নটিয়ালকে।
জানা যাচ্ছে, সিসিটিভি ফুটেজে প্রমোদ নটিয়ালকে অনুদানের টাকা, অলঙ্কার সরাতে দেখা গেছে। প্রমোদ নটিয়ালের পাশাপাশি কমিটির তৎকালীন ম্যানেজার, চিফ ইন চার্জ এবং তৎকালীন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন