গতকাল থেকে চলা প্রবল বিক্ষোভের পর এখন অনেকটাই শান্ত আসামের কোকরাঝাড়। সোমবার রাত থেকে চলা দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় চার কলম সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন বোড়োদের সঙ্গে আদিবাসীদের বিবাদ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, সোমবার রাতে মানসিং রোডে একটি গাড়ি দুই আদিবাসী যুবককে ধাক্কা মারে। গৌরী নগর-মাশিং রোডের কারিগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির কাছে গাড়িটি দুই আদিবাসীকে ধাক্কা দেয় এবং তারা আহত হন। গাড়িতে ছিলেন বোড়ো জনগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি। এরপরেই উত্তেজিত জনতা গাড়িটি ঘিরে ফেলে বোড়ো যুবকদের মারধোর করে এবং গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরেই দুই গোষ্ঠী পারস্পরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়।
সোমবার রাতের এই ঘটনার পর মঙ্গলবার কারিগাঁও-এর নিকটবর্তী এলাকায় দুই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জাতীয় সড়ক ২৭ (NH 27) অবরোধ করা হয়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা আটকে বিক্ষোভের সময় একটি সরকারি দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশ আউটপোষ্টে হামলা চালানো হয়। হিংসা যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে তাই দ্রুত ইন্টারনেট মোবাইল ডাটা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুসারে কোকরাঝাড় জেলা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গুজব ছড়ানো রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোকরাঝাড় ও চিরাং জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ডেটা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
কোকরাঝাড়ের এসএসপি অক্ষত গর্গ জানিয়েছেন যে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে আধাসামরিক বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোকরাঝাড়ের ডেপুটি কমিশনার এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ চক্রবর্তী জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা কোড (BNSS), 2023 এর ধারা 163 এর অধীনে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করে কোনও ধরণের সমাবেশ, সমাবেশ বা স্লোগান নিষিদ্ধ করেছেন।
আসাম পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো এড়াতে জনগণকে আবেদন জানানো হয়েছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা গুজব ছড়াবে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে হিংসার ভয়ে, কারিগাঁওয়ের বহু গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। প্রশাসন তাদের জন্য কারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং গওয়াজানপুরী আমানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি ত্রাণ শিবির স্থাপন করেছে। বর্তমানে, আইজিপি (আইন শৃঙ্খলা) অখিলেশ কুমার সিং ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।