Assam: এক বুথে ১৩৩ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দিতে চাপ! আসামে ভোটার তালিকা ঘিরে একাধিক অভিযোগ

People's Reporter: শিক্ষক সুমনা চৌধুরীর জানান, এই অভিযোগ অসত্য। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করার সময় তিনি সব ভোটারকেই তাদের বাড়িতে পেয়েছিলেন। ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ করেছেন বিধায়ক অখিল গগৈ ও সিপিআইএম।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকী ছবি সংগৃহীত
Published on

রাজস্থান জয়পুরের বিএলও কিরীটি কুমারের পর একই অভিযোগ জানালেন আসামের বিএলও সুমনা রহমান চৌধুরী। গত ১৯ জানুয়ারি সুমনা চৌধুরী সহ মোট আসামের শ্রীভূমি জেলার ১৫ জন বিএলও এই সংক্রান্ত অভিযোগ এনেছেন। সুমনার অভিযোগ, করিমগঞ্জ উত্তর কেন্দ্রের অন্তর্গত তাঁর শ্রীমন্ত কানিশালি গ্রামের বুথে ১৩৩টি ফর্ম নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে জেলা আধিকারিকদের এক বৈঠকে।

দ্য স্ক্রল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, ফর্ম ৭ ব্যবহার করে ১৩৩ জনের নাম বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। যাদের নাম বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে তারা সবাই মুসলিম। আবেদনকারী ব্যক্তির দাবি ওই ভোটাররা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় থাকেন না অথবা তাঁদের নাম দু’বার করে আছে।

যদিও চৌধুরীবাজার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক সুমনা চৌধুরীর অভিযোগ, তিনি জানেন এই অভিযোগ পুরোটাই অসত্য। কারণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনামুরেশন ফর্ম ফিলাপ করার সময় তিনি ওই সব ভোটারকেই তাঁদের বাড়িতে পেয়েছিলেন এবং তাঁদের ফর্ম পূরণ করিয়েছেন এবং স্বাক্ষর নিয়েছেন। সুমনা জোরের সঙ্গে দাবি জানিয়েছেন, তাঁরা অন্য কোথাও চলে যায়নি এবং তাঁরা সকলেই আসল ভোটার। তিনি আরও বলেন, এই তালিকায় আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নাম আছে এবং আমার অনেক ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকদের নাম আছে। আমি কীভাবে তাঁদের বলবো যে শুনানিতে এসে প্রমাণ করুন যে আপনারা আসল ভোটার?

জানা যাচ্ছে, ১৩৩টি নাম বাতিলের আবেদন জমা করেছেন সেলিম আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। অথচ বাতিলের তালিকায় তাঁরও নাম আছে। যার অর্থ, নিজেই নিজের নাম বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি। যদিও ওই ব্যক্তি এই ধরণের আবেদন জমা করার কথা অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএলও সুমনা চৌধুরী। সুমনাকে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, আমার তো মাথা খারাপ হয়ে যায়নি যে নিজের নাম এবং আমার আত্মীয়দের নাম বাতিল করার আবেদন জানাবো।

শুক্রবারই আসামের এসআর প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ। এদিন সকালে এক ভিডিও পোষ্ট করে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “ভয়াবহ। বিজেপি বোকো সাব-ডিভিশন অফিসে ঢুকে পড়েছে। রাত সাড়ে আটটায়, বিজেপি নেতারা নিজেরাই ফর্ম ৭-এর কাজ শুরু করেন—ভোটারদের নাম মুছে ফেলেন এবং অন্যদের ভোটার তালিকাভুক্ত হতে বাধা দেন। দেশ শেষ, গণতন্ত্র শেষ। ভোট চোররা গণতন্ত্রের মন্দির লুট করেছে।”

এর আগে আসামের এসআর নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলো সিপিআইএম আসাম। দলের আসাম রাজ্য কমিটির সম্পাদক সুপ্রকাশ তালুকদার গত ২ জানুয়ারি তারিখে জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বাজালি (Bajali) জেলার জেলা প্রশাসক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের এক বৈঠক ডাকেন। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী রণজিৎ কুমার দাস মূলত স্কুল শিক্ষকদের সাথে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক আরও জানিয়েছিলেন, “জানা গেছে যে, এই বৈঠকে জেলা প্রশাসক মৌখিকভাবে এই সরকারি কর্মচারীদের বাজালি জেলার ১১৫টি ভোটকেন্দ্রে (২১-ভবানীপুর-সরভোগ বিধানসভা কেন্দ্রের ৭৬টি এবং ২৬-বাজালি বিধানসভা কেন্দ্রের ৩৯টি বুথ) ভোটারদের একটি ‘সমীক্ষা’ বা যাচাই করার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের সংখ্যা বেশি।”তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ওইসব বুথে এই ধরনের যাচাই বা সমীক্ষার অনুমোদন দিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত আদেশ বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। যা অত্যন্ত আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য তা হলো, এই নির্দেশগুলো বিশেষভাবে সেইসব ভোটকেন্দ্রের জন্য জারি করা হয়েছিল যেখানে সরকারিভাবে নিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসাররা [বিএলও] মুসলিম।”

গত ২৭ ডিসেম্বর আসামে স্পেশাল রিভিশন-এর (Special Revision – SR) পর যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৫২ লক্ষ ২ হাজার ৭৭৫। এর মধ্যে সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৯৩ হাজার ২১ জনকে। যাদের নাম বাদ দিলে ভোটার সংখ্যা হয় ২ কোটি ৫১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৫৪।

আসামের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এসআর তালিকা প্রকাশের সময় জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ৬১ লক্ষ ৩ হাজার ১০৩টি বাড়িতে গিয়ে বিএলও-রা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যাতে দেখা গেছে মৃত ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৯২ এবং ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৮০ ভোটার স্থানান্তরিত। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে রাজ্যে ৫৩,৬১৯ জনের নাম একাধিক জায়গায় আছে। প্রসঙ্গত অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর হলেও আসামে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্স-এর কাজ বাকি থাকায় সেখানে এসআইআর হচ্ছে না।

ছবি প্রতীকী
SIR: 'মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ' দিতে 'চাপ' বিজেপি-র! রাজস্থানে বিএলওর অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল
ছবি প্রতীকী
CPIM: এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের হেনস্থা; প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আক্রান্ত CPIM নেতা-কর্মীরা

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in