আসামে ভয়াবহ বন্যায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এবারের বন্যায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। মঙ্গলবার শিবসাগর জেলা থেকে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যাঁদের প্রত্যেকেই জলে ডুবে মারা গেছেন। এই মুহূর্তে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ এখনও সম্পূর্ণ কাটেনি বলে জানানো হয়েছে।
আসামের বন্যায় রাজ্যের ৭টি জেলা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬২২ টি গ্রামের মানুষ এই ভয়ংকর বন্যার কবলে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ৪৫ হাজার ৩৪১ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। বন্যা কবলিত এলাকায় বিপর্যস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষের কাছাকাছি। যদিও বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে এই সংখ্যা ৫ লক্ষের ওপরে।
আসামের যে ৭ জেলা এবারের বন্যায় সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত তার মধ্যে আছে শিবসাগর, চড়াইদেও, গোলাঘাট, জোড়হাট, নগাঁও, শোনিতপুর এবং কামরূপ। যার মধ্যে সবথেকে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চড়াইদেওতে। আনুমানিক ১ লক্ষ ৪২ হাজার। এরপরেই বেশি ক্ষতি হয়েছে শিবসাগর জেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৭৪ জন। জোড়হাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭,৩৭১ জন।
আসাম সরকারের পক্ষ থেকে মৃত প্রতি ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৪ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ লক্ষ টাকা করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার পদ্ধতিকেও শিথিল করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পেতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে না; পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারের দেওয়া সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে দাবির মীমাংসা করা হবে। এছাড়া, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের জন্যও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি এক মাসের মধ্যে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার না হয় এবং সার্কেল অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তবেই এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তা হিসেবে রাজ্য সরকার ১৫,০০০ টাকা দেবার কথা জানিয়েছে। শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বন্যাদুর্গত সমস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ৮১টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৩২,৪৭৭ জন মানুষ। বন্যার কারণে এদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৪টি ত্রাণ কেন্দ্র থেকে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, শিশুদের খাবার, ত্রিপল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগ, চিকিৎসা কর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দল বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা প্রদান করছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন