বিজেপিতেই যোগ দিলেন আসামের পদত্যাগী কংগ্রেস নেতা ভূপেন বোরা (Bhupen Kumar Borah)। তিনি আসাম রাজ্য কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। রবিবার কংগ্রেস নেতা ভূপেন বোরা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দেন। প্রসঙ্গত, কংগ্রেস থেকে ভূপেন বোরার ইস্তফার পরেই তিনি যে বিজেপিতে যোগ দেবেন তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sharma)। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।
এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভূপেন বোরা বলেন, আমি বিজেপিতে যোগ দেব ভেবে কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিইনি। আমি ভেবেছিলাম ইস্তফার পর কংগ্রেস নিজেদের ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করবে, আত্মসমালোচনা করবে। আমি চেয়েছিলাম, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে। কিন্তু আমি তা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস আসামীদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। আমি ৩২ বছর ধরে কংগ্রেস করেছি, কংগ্রেসের আদর্শ মেনে চলেছি। কংগ্রেসের সেবা করেছি। কিন্তু আমি আহত হয়েছি। এদিনই নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে নিজের ছবি পোষ্ট করেছেন ভূপেন বোরা।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নিজের ইস্তফাপত্র দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ভূপেন বোরা। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ তাঁকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। ভূপেন বোরা ইস্তফাপত্র পাঠালেও প্রাথমিকভাবে তা গ্রহণ করেনি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। যদিও পরে তা গ্রহণ করা হয়।
ইস্তফা দেবার পরেই ভূপেন বোরার সঙ্গে দফায় দফায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আসামের শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্ব। একাধিক কংগ্রেস নেতা তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তাঁকে কংগ্রেস না ছাড়াও অনুরোধও জানানো হয়। যদিও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন বোরা।
ভূপেন বোরার কাছে কংগ্রেসের দৌত্যের মাঝেই তাঁর বাড়িতে চলে যান আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারের পর ওইদিনই তিনি জানান, ভূপেন বোরা বিজেপিতে যোগ দেবেন। কবে যোগ দেবেন সেই বিষয়ে অসম বিজেপি সভাপতি দিলীপ সইকিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আজ রবিবার গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে বিজেপিতে যোগ দেন ভূপেন বোরা।
এদিন ভূপেন বোরা ছাড়াও আসামের কংগ্রেস নেতা সঞ্জু বোরা, রাজেশ কুমার জোশী, কঙ্কণ দাস, গগন চন্দ্র বোরা সহ আরও বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগ দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন