Asaram Bapu: ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আশারাম বাপুর জামিনের আবেদন খারিজ করলো শীর্ষ আদালত

People's Reporter: সুপ্রিম কোর্ট আশারাম বাপুর প্যারোলের আবেদন খারিজ করে রাজস্থান সরকারের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। আদালত জানিয়েছে, দু'পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু
স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুফাইল ছবি, দ্য মিন্ট থেকে সংগৃহীত
Published on

২০২৪-এর মার্চ থেকে ২০২৬-এর মে মাস পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ বার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৮ মে, ২০২৬ প্রায় ৭ মাস তিনি জামিনে মুক্ত থাকার পর আদালতের নির্দেশে যোধপুর জেলে ফিরতে বাধ্য হন। যদিও তারপরেই আবারও প্যারোলের জন্য আবেদন জানান নাবালিকা ধর্ষণ কান্ডে সাজাপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আসারাম বাপুর প্যারোলের আবেদন খারিজ করে রাজস্থান সরকারের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ২৭ মে রাজস্থান হাইকোর্টে বিচারপতি অরুণ মোঙ্গা এবং বিচারপতি যোগেন্দ্র কুমার পুরোহিত আসারাম বাপুর সাজা বহাল রাখেন এবং তাঁর জামিন বাতিল করেন। ২০১৩ সালের নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে শাস্তিপ্রাপ্ত আসারাম প্রসঙ্গে বেঞ্চ জানায়, শারীরিক দুর্বলতা কখনই নির্যাতিতার সাক্ষ্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেনা। এই সাজাকে উপেক্ষা করা হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণ আস্থা হারাবে। সাজা বহাল থাকায় ২৮ মে ২০২৬ তারিখে ফের জেলে ফিরতে হয় আসারাম বাপুকে।

এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় প্যারোলে মুক্তি পেলেও মুক্ত থাকার সময় আসারাম বাপুকে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ ঘুরতে দেখা গেছে। আদালতে অভিযোগকারীর আইনজীবীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট হওয়া সেইসব ছবি ও ভিডিও আদালতে দাখিল করেন। যেখানে আসারাম বাপুকে উজ্জয়িনী, অযোধ্যা, বারাণসীতে দেখা যায়। তাদের দাবি ছিল, প্রকাশ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এবং অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করে আসারাম বাপু জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। এরপরেই তাঁর জামিনের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি এবং তিনি জেলে ফিরতে বাধ্য হন।

২০১৩ সালে স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালে যোধপুরের এক আদালত স্বঘোষিত এই গডম‍্যানকে দোষী সাব্যস্ত করে। আইপিসি, জুভেনাইল জাস্টিস অ‍্যাক্ট এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন।

২০২২ সালে প্রথম বার রাজস্থান হাইকোর্টে জামিনের আর্জি জানান তিনি। ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সে বছর সুরাটের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আশারামের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরে তার জামিনের আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত।

স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু
Asharam Bapu: অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত আশারাম বাপুর!
স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু
Pune: স্বঘোষিত গুরুর কীর্তি; এক মহিলাকে যৌন শোষণ, অত্যাচার, নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার 'বাবা' সহ ৮

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in