

ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় তছনছ হয়ে গেছে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অংশ। পরপর দুই ভূমিকম্পের ধাক্কায় রাজধানী কারাকাসের বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বহু মানুষ। ইউএসজিএস আশঙ্কা করে জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হবার সম্ভাবনা। কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলা জুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
কারাকাসের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটর স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.২ ম্যাগনিটিউড। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরে হওয়া দ্বিতীয় ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৫ ম্যাগনিটিউড।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (USGS) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রথম ভূমিকম্পটির উৎসস্থল কারাকাসের দক্ষিণে ইয়ারাকুতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২২ কিলোমিটার গভীরে।
এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরে দ্বিতীয় যে ভূমিকম্প হয় তার উৎপত্তিস্থল প্রায় ওই একই অঞ্চলে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভেলেজুয়েলার এই ভূমিকম্প ওই অঞ্চল থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটাতেও অনুভূত হয়েছে। দুটি ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে ২০ বার আফটারশক হয়।
কারাকাস ছাড়াও ভেনেজুয়েলার উত্তরীয় তটরেখা, লা গুয়ারিয়া, আরাগুয়া, ফ্যালকন, কারাবোডো অঞ্চল ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পকে শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্প হিসেবে বলেছে ইউএসজিএস। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীর রাষ্ট্রপতি ডেলসি রডরিগেজ দেশে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি জানিয়েছেন, দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, রেল এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের জেরে ভেঙে পড়েছে সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ সহানুভূতি প্রকাশ ও সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লুইস আবিনাদেরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
দা সিলভার সহায়তার প্রস্তাবের জবাবে ‘এক্স’ (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে (পূর্বতন ট্যুইটার) রডরিগেজ জানিয়েছেন, “আমাদের জনগণের মধ্যকার সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এই মনোভাবকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি; এই প্রস্তাব আমাদের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের বন্ধনকেই পুনর্ব্যক্ত করে।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন