ভেনেজুয়েলার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৪,৩০০ ছাড়িয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কারাকাস (Caracas) এবং সংলগ্ন অঞ্চলের অবস্থা ভয়াবহ। একাধিক অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষের আটকে থাকার সম্ভাবনা। ভেনেজুয়েলার সরকারি সূত্র অনুসারে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সমুদ্র তীরবর্তী লা গুয়াইরাতে (La Guaira)।
ভেনেজুয়েলার মন্ত্রী ডিওসডাডো কাবেলো ভূমিকম্পে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে অভিযান চালাচ্ছে। বিরামহীন ভাবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারের কাজ চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের সভাপতি হোরহে রডরিগেজ জানিয়েছেন, এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। প্রায় ২৫০টি ধসে পড়া বহুতলের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কমপক্ষে ৮০ জন স্প্যানিশ নাগরিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত লা গুয়াইরার ছবিতে দেখা গেছে এই শহরের বহু বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে গেছে। ভেঙে পড়েছে বহু বহুতল। স্থানীয় বহু মানুষ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন। ভূমিকম্পের কারণে হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাতেই অস্থায়ী ওয়ার্ড তৈরি করে সেখানে আহতদের চিকিৎসা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর কারাকাস বিমানবন্দরের সমস্ত উড়ান আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। যদিও কোপা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে গতকাল সন্ধ্যের পর থেকে তারা ভ্যালেন্সিয়া থেকে উড়ান শুরু করেছে।
ভেনেজুয়েলায় বুধবার দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারের জরুরি প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো যোগ দিয়েছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শুক্রবারও ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, এল সালভাদর, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং রাষ্ট্রসংঘ উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠাতে থাকে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন