

জোড়া ভূমিকম্পের পর দু’দিন কেটে গেলেও এখনও ভেনেজুয়েলা কার্যত স্তব্ধ। বিশেষ করে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাস এবং লা গুয়াইরায় এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে এই ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে ৯২০ জন। আহতের সংখ্যা ৩,৩৬০। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প এবং ১৩৮টি আফটারশকের জেরে ৩৮৩টি বাড়ি এবং বহুতল হয় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে ৪০ হাজার মানুষের খোঁজ নেই। যদিও ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।
ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, লা গুয়াইরার অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে সেখানকার বেশ কিছু অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবুও সেখানে একটানা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সিভিল প্রোটেকশন টিম। এই কাজে হাত লাগিয়েছেন বহু স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ। ঘরহারা মানুষদের জন্য বেশ কিছু অস্থায়ী শিবির তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্থায়ী ভাবে ছাউনি তৈরি করে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গতকাল ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যান এবং ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার কাজকর্মের তদারিক করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমরা আশা করছি যে অধিকাংশ জীবিত মানুষকেই আমরা উদ্ধার করতে পারবো। সর্বাত্মকভাবে সেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেওয়ায় কাজে গতি এসেছে।
ভেনেজুয়েলার বিশেষ এই পরিস্থিতিতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে ‘জেনারেল লাইসেন্স ৬০’ (GL60) জারি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ভূমিকম্প পরবর্তী ত্রাণ সংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যদিও ভেনেজুয়েলার একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এখনও ‘ফ্রিজ’ করে রাখার নির্দেশ বহাল আছে। অর্থাৎ, ত্রাণের কাজ পরিচালনার জন্যেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হবে। যদিও অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার জন্য ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা দেবার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যে সহায়তা ‘ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস’ এবং রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, মার্কিন অবরোধের কারণে কারাকাস ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডে থাকা প্রায় ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সোনা এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময়কালে আইএমএফ (IMF)-এর দেওয়া প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস’ (SDR)-এর কোনোটাই ভেনেজুয়েলা ব্যবহার করতে পারছে না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন