Sri Lanka Crisis: পদত্যাগে রাজি নন গোটাবায়া রাজাপক্ষে, কোন পথে শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ?

গত মঙ্গলবার, মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভা ভেঙে গেছে। এ অবস্থায় দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
Sri Lanka Crisis: পদত্যাগে রাজি নন গোটাবায়া রাজাপক্ষে, কোন পথে শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ?
গোটাবায়া রাজাপক্ষে (বামে)ফাইল চিত্র - সংগৃহীত

বিক্ষোভের জেরে কয়েকদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে। তবে এখনই পদত্যাগ করতে রাজি নন রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপক্ষে। উল্টে, নতুন সরকার গঠনের পক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার গোটাবায়া জানান, ‘দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি নতুন সরকার এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সুযোগ দেব। সেই পক্রিয়া খুব দ্রুত শুরু হবে।’ সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘দেশের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে, তারপর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা হ্রাস করার বিষয়ে আমি যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করবো।’

চলতি সপ্তাহে গোটাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবীতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। ৮ জন মানুষ প্রান হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। বিরোধীরা ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের উপর হামলা চালায় এবং তাদের কিছু বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। আতঙ্কে মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা আত্মগোপনে করেছেন। আর, দেশব্যাপী কারফিউ বাড়িয়ে চলেছেন রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া।

গত মঙ্গলবার, মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভা ভেঙে গেছে। এ অবস্থায় দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দেশের বিক্ষুব্ধ জনগণ এজন্য গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিরোধীরাও সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা হ্রাসের দাবি তুলেছেন। কিন্তু, সকল দাবিই খারিজ করে দিয়েছেন গোটাবায়া। ফলে, এবার কি হতে পারে তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন-

১. রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া যদি পদত্যাগ না করেন তাহলে তাকে ইমপিচমেন্ট করা যায় কিনা, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে জানা যাচ্ছে গোটাবায়াকে ইমপিচমেন্ট করা সহজ হবে না। কারণ এক্ষেত্রে প্রথমেই স্পিকারের অনুমোদন লাগবে। তারপর, দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য দ্বারা একটি প্রস্তাব পাস করতে হবে, যেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে - একজন রাষ্ট্রপতি কেন এই পদে বহাল থাকার অযোগ্য। এরপর বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত করে জানাবে, অভিযোগ সত্য কিনা। তারপরে বিষয়টি নিয়ে ভোটাভুটি করার সুযোগ মিলবে। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে শ্রীলঙ্কার সংসদে বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নেই। ফলে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা খুবই জটিল হবে।

২. রাষ্ট্রপতি হিসেবে গোটাবায়া রাজাপক্ষে সংসদের একজন সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। একই প্রক্রিয়ায় তিনি মন্ত্রিসভাও গঠন করতে পারবেন। তবে তার এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। তবে সংসদে গোটাবায়ার যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না তা এখন স্পষ্ট নয়। কেননা, চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার জনগন ক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন এক সাংসদ। আহত হয়েছন আরও কয়েকজন সাংসদ।

৩. সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেন গোটাবায়া। তবে দেশের সংবিধান সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদকালে তা ভেঙে দেওয়ার অনুমতি দেয় নি রাষ্ট্রপতিকে। তবে, সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য স্পিকার এবং সাংসদদের কাছে অনুরোধ করতে পারেন তিনি। তারপর নতুন করে নির্বাচন হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে। তা হল, নতুন নির্বাচন করতে গেলে আর্থিক সঙ্কটে থাকা শ্রীলঙ্কার অবস্থা আরও সঙ্গিন হবে। এরপরও বিরোধীরা জয়ী হলে, গোটাবায়া রাজাপক্ষে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মূল ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন। এমনকি, নিজের পছন্দ মত একজন সাংসদকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখবেন।

৪. আর উপরের সবকটি সম্ভাবনা কাজে না দিলে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আর তা হল সামরিক অভ্যুত্থান। যদিও শ্রীলঙ্কায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের ইতিহাস রয়েছে। আর সামরিক অভ্যুত্থান হলে, তা রাজাপাক্ষদের পক্ষেই যাবে। জানা যাচ্ছে, গোটাবায়া রাজাপক্ষে প্রায় ৫০ জনের বেশি কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারকে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানপদে নিয়োগ করেছেন। এছাড়া, শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান জেনারেল শভেন্দ্র সিলভা হলেন গোটাবায়া রাজাপক্ষের খুব কাছের মানুষ। এবং ভালো বন্ধু।

গোটাবায়া রাজাপক্ষে (বামে)
‘রাজাপক্ষে, তোমাদের দিন শেষ’, হুংকার শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রিকেটার সনৎ জয়সূর্য, সাঙ্গাকারার

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.