তিব্বত নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯০৩। কাঠমান্ডু পোষ্টের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে এই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ ৪,২৪৭ জন। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা ঘেকে ১০,৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া দেহ শনাক্ত করা এবং সংরক্ষণ করাই সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক সূত্র অনুসারে মোট ২১টি হাসপাতালে অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদেহ রাখা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নেপাল পুলিশের দুর্যোগ সংক্রান্ত পোর্টালে নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেওয়া হচ্ছে।
নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পরিস্থিতি চূড়ান্ত প্রতিকূল হওয়ায় উদ্ধারকাজ দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না। বহু জায়গাতেই দুর্গমতার কারণে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবুও এই প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। যেহেতু হড়পা বানের স্রোত বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে তাই সেই সব জায়গাতেই উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। মোট ২০,৮০০ জন কর্মী এই উদ্ধারকাজে যুক্ত আছেন। যার মধ্যে ৮,৭২২ জন নেপালি সেনাবাহিনীর, ৭,৮৯৪ জন নেপাল পুলিশের এবং ৪,২০৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর। এর মধ্যেই নতুন বন্যার সতর্কতা জারি হওয়ায় সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোমবার সকাল ৯টায় নেপালের জাতীয় ঝুঁকি কর্তৃপক্ষ যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে সবথেকে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ানে, ২৭২টি। এছাড়াও নওয়ালপ্রাশি পশ্চিমে ১৫১টি, নুয়াকোটে ৯৫টি, গোর্খায় ৬২টি, ধাদিং-এ ৫৫টি, তানাহুনে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে নুয়াকোটে। জানানো হয়েছে এখানে নিখোঁজ ১,৫৫৮ জন, রাসুয়ায় ৮৬৫ জন। এছাড়া এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯৩৩ জন ছাড়াও ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১২৭ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল পুলিশের ২৫ জন, নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, ১৫ জন কাস্টমস অফিসার এবং ৩জন ইমিগ্রেশন অফিসারও নিখোঁজ।
নেপাল প্রশাসন সোমবার সকাল ৯টায় জানিয়েছে, ২৫২ জন বিদেশি নাগরিক, ৩,৩৪৪ জন নেপালি নাগরিককে উদ্ধার করে হেলিকপ্টার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ জন চিনা নাগরিক এবং ৭ ভারতীয় নাগরিককে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন