সম্ভবত কোনো তীর্থযাত্রীরই কল্পনাতেও ছিলো না এই ধরণের ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যে ঘটনার সাক্ষী রইলো বুধবার সকালের নেপাল তিব্বত সীমান্তের রসুয়াগাধি (Rasuwagadhi)। কাঠমান্ডু টাইমস জানিয়েছে, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নিখোঁজ কমপক্ষে ৪০০ জন। যাদের অধিকাংশই ভারতীয় এবং তাঁরা তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবর যাচ্ছিলেন। খোঁজ নেই কমপক্ষে ৯৩ জন নেপালি নাগরিকের। এদিনই এই তীর্থযাত্রীদের নেপাল থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে তিব্বতে প্রবেশ করার কথা ছিল।
এখনও পর্যন্ত ঘটনার যে সমস্ত ভিডিও সামনে এসেছে তা হাড়হিম করে দেবার মত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে কমপক্ষে পাঁচ তলা সমান উঁচু জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে সবকিছু, ভেসে যাচ্ছে মানুষ।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, প্রবল জলের তোড়ে নেপালে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে। তিব্বত থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের সূত্র অনুসারে, ওই অঞ্চল থেকে কমপক্ষে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ৩ মার্কিন নাগরিক এবং ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক সহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের ৮ জন নাগরিক এদিনের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন।
কাঠমান্ডু টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, নিখোঁজ তীর্থযাত্রীরা বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সির গ্রাহক। যার মধ্যে সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস-এর গ্রাহক ৭১ জন, লিফ হলিডেজ-এর ৫৫ জন, কাঠমান্ডু হলিডেজ-এর ১৭ জন, কৈলাস জার্নি-র ৩১ জন, এক্সপ্লোর ভ্যাকেশন-এর ৭ জন, ট্রেকার্স সোসাইটি-এর ৯২ জন, রিচা ট্যুরস-এর ১২ জন, ফিশটেল ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেলস-এর ২৭ জন, হিমালয়ান গ্লেসিয়ার-এর ৬২ জন এবং আলপাইন ইকো ট্রেক-এর ১৬ জন। কাঠমান্ডু ভিত্তিক এক ভ্রমণ সংস্থার পরিচালক জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের পর এখনও পর্যন্ত দু-একজন ছাড়া কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কী কারণে এই ভয়াবহ বিপর্যয় হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট করে জানা না গেলেও জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, হড়পা বান আসার ৭ মিনিট আগে ওই অঞ্চলে একটি ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। একই কথা জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
নেপাল প্রশাসনের সূত্র অনুসারে, পার্বত্য জেলা রাসুয়া সংলগ্ন এই অঞ্চলের স্যাপ্রু এবং তিমুরে প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। যদিও নদীতে জলবৃদ্ধির কারণে এখনও পর্যন্ত ওই এলাকায় হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
চীনের পক্ষ থেকেও এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কমপক্ষে পাঁচ ফুট পলির তলায় চলে গেছে। ফলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন