গত বুধবার নেপাল তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১,১১৪ জন। বুধবার নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)-র তথ্য অনুযায়ী, ভোটে কোশি নদীর বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,১১৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ৩,৯১৬ জন। বন্যা বিধ্বস্ত এলাকায় এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। অনুমান করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত ২৬ আগস্ট সকালে আচমকাই ধেয়ে আসে এই হড়পা বান এবং ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকা সংলগ্ন বেশ কয়েকটি জেলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এনডিআরআরএমএ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া জেলায় ৪১টি, নুয়াকোটে ১৫৫টি, ধাদিংয়ে ৫৯টি, গোর্খায় ৬৬টি, তানাহুনে ৩৫টি, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ১৭৭টি, পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ১৯০টি এবং চিতওয়ানে ৩৪৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে এনডিআরআরএমএ-র মুখপাত্র শান্তি মাহাতো সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২১,৩১৪ জন নিরাপত্তা কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে।
নেপাল প্রশাসনের সূত্র অনুসারে, এখনও পর্যন্ত মোট ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৭টি ট্রাক এবং বেশ কিছু ছোট যানবাহনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ বিধ্বস্ত পরিবারগুলোর কাছে আকাশপথে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
এনডিআরআরএমএ-র তথ্য অনুসারে, সরকার এ পর্যন্ত বন্যাদুর্গত ১৫টি পৌরসভার জন্য ৬৭.৫ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়াও রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, রাসুয়ায় ভোটেকোশি নদীর বিধ্বংসী বন্যার সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র রয়েছে। তিনি হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও জোরালো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবারের ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বিপর্যয়ের পেছনে হিমালয় অঞ্চলের তাপমাত্রা ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির প্রভাব অবশ্যই আছে। তিনি আরও বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই বিপর্যয়। জলবায়ু পরিবর্তন একটি আন্তর্জাতিক বিষয় এবং এর মোকাবিলা করাও একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।”
শাহ জানান, সরকার এখন অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম থেকে সরে এসে পুনর্বাসনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে; পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা সেবা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নুয়াকোটের ১৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২,৬৫৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের মধ্যে রাসুয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বেঁচে যাওয়া নাগরিকরাও রয়েছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন