Islamabad: ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হানা, আহত প্রায় ১৭০, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯। শুক্রবারের এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৭০ জন আহত হয়েছেন। এদিন শেহজাদ শহর এলাকার তারলারি ইমামবাড়ায় দুপুরে নমাজ চলাকালীন এই বিস্ফোরণ হয়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে দুপুরে এক শিয়া মসজিদের মূল প্রবেশদ্বারে এই আত্মঘাতী হামলা হয়।
এই ঘটনার পরেই ইসলামাবাদ শহর জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বর্তমানে পাকিস্তান সফরে এসেছেন উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকৎ মিরজিওয়েভ (Shavkat Mirziyoyev) এবং ইসলামাবাদে আছেন। তাঁর সফর চলাকালীন এই বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের দায় কেউ গ্রহণ না করলেও প্রাথমিকভাবে পুলিশ সূত্র অনুসারে বিস্ফোরণের পেছনে পাকিস্তানি তালিবান (তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান – টিটিপি) অথবা ইসলামিক স্টেট গ্রুপের হাত আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন তা জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে এক এক্স বার্তায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে সেই ট্যুইট সরিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই ঘটনায় কমপক্ষে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুসারে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, বিস্ফোরণের ধরণ দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে হচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রার্থনা শুরু হবার পরেই বুলেটের আওয়াজ পাওয়া যায়। তাঁরা আরও জানিয়েছেন মসজিদের গেটে নিরাপত্তারক্ষীরা দুই ব্যক্তিকে আটকায়। এর পরেই ওই দুই ব্যক্তি নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।
বিস্ফোরণের পরেই ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী এবং রেসকিউ ১১২২ দলের সদস্যরা। দ্রুত ওই এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। আজকের ঘটনার মাস তিনেক আগে প্রায় একই ধরণের আত্মঘাতী হামলায় ইসলামাবাদের এক আদালতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
আজকের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারী এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা মানবতা বিরোধী।
পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই ধরণের সন্ত্রাসবাদী কাজ করে জাতির মনোবলকে দুর্বল করা যাবে না। আমরা শান্তি, স্থিতিশীলতার জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকবো।
SUPPORT PEOPLE'S REPORTER
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন
