দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল বুরকিনা ফাসোতে। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর এক ডিক্রি জারি করে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশের ক্ষমতাসীন সরকার দেশে সব ধরণের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো। ওই বৈঠকে পৌরহিত্য করেন বুরকিনা ফাসোর রাষ্ট্রপতি ক্যাপটেন ইব্রাহিম টারোরে (Captain Ibrahim Traoré)। ওই বৈঠক থেকেই ‘রিল্যান্স পরিকল্পনা’ (Relance Plan) নামক এক নতুন জাতীয় উন্নয়ন কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর সরকারি মুখপাত্র পিংডওয়েন্ডে গিলবার্ট ওউয়েদ্রাগো (Pingdwendé Gilbert Ouédraogo) জানিয়েছেন, বুরকিনা ফাসোর জনসাধারণের জীবনের মানোন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী এমিল জেরবো (Émile Zerbo) জানিয়েছেন, সরকার মনে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কারণে সামাজিক বিভাজন আরও বাড়ছে এবং জাতীয় সংহতি দুর্বল হচ্ছে। তাই দেশে ঐক্য রক্ষা করতে এবং রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিবৃতি অনুসারে, দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের সমস্ত সম্পদ রাষ্ট্র গ্রহণ করবে এবং সেগুলি সরকারি সম্পদ বলে ঘোষিত হবে। দেশে বিরোধী দলনেতা পদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।
অর্থমন্ত্রকের অধীনে দেশের উন্নয়নের জন্য যে রিল্যান্স পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তাতে চারটি ভাগ আছে। যার মধ্যে আছে, নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি এবং শান্তি সুসংহত করা। রাষ্ট্রের পুনর্গঠন এবং শাসনব্যবস্থার মান উন্নয়ন করা, মানব সম্পদের বিকাশ ঘটানো এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনীতির আমূল সংস্কার।
নতুন এই কৌশলগত কাঠামোর মাধ্যমে সরকার জাতীয় ভূখণ্ড সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার, দারিদ্র্যের হার ৪২% থেকে ৩৫%-এ নামিয়ে আনা, গড় আয়ু ৬১ বছর থেকে ৬৮ বছরে উন্নীত করা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬৮৫ মেগাওয়াট থেকে ২৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি করে তিনগুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ইব্রাহিম টারোরে
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন ইব্রাহিম টারোরে। তখন থেকে তিনিই দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বুরকিনা ফাসোর জনগণের বড়ো অংশের কাছে এই মুহূর্তে তিনি প্রবল জনপ্রিয়।
২০২৪ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও ইব্রাহিম তা রক্ষা করেননি বলে অভিযোগ আছে। ডিক্রি জারি করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করার সাম্প্রতিক ঘটনাতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে কোনও দেশ এগোতে পারে না বলেই তাদের অভিমত।
ইব্রাহিম টারোরের মধ্যে অনেকেই বুরকিনা ফাসোর চার দশক আগের প্রেসিডেন্ট টমাস শঙ্করার ছবি দেখতে পান। যিনি তাঁর শাসনকালে প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন। টমাস শঙ্করাকে বুরকিনা ফাসোতে ‘ফাঁদার অফ দি বুরকিনাবে রেভোলিউশন’ বলা হয়। ১৯৮৩ সালে দেশের সাক্ষরতার হার ১৩ শতাংশ থেকে মাত্র চার বছরের মধ্যে ১৯৮৭ সালে তিনি তা ৭৩ শতাংশে নিয়ে গেছিলেন। তাঁর আমলেই লক্ষ লক্ষ শিশুর টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছিল এবং শুষ্ক ক্রান্তীয় জলবায়ু সত্ত্বেও বুরকিনা ফাসোর বনাঞ্চলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শঙ্করা দরিদ্র কৃষকদের সাহায্য করার জন্য জমি পুনর্বণ্টন করেছিলেন, যার ফলে তুলার ফলন বৃদ্ধি পায়।
বুরকিনা ফাসো
বুরকিনা ফাসো পশ্চিম আফ্রিকার এক স্থলবেষ্ঠিত দেশ। রাজধানী ওয়াগাডুগু। অতীতের ফরাসি উপনিবেশ এই দেশ ১৯৬০ সালে ‘আপার ভোল্টা’ নাম নিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে দেশের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বুরকিনা ফাসো। এই দেশের ৭৩.৯ শতাংশ মানুষ গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাস করে এবং ২৬.১ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে। এই দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষর কাছাকাছি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন