সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে ইরানের পরিস্থিতি। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে ইরান জুড়ে একদিকে যেমন খোমেইনি শাসনের অবসান চেয়ে বিক্ষোভ চলছে অন্যদিকে গত কয়েকদিন থেকে সরকারের সমর্থনেও পথে নেমেছেন বহু মানুষ। প্রধানত আর্থিক দুর্দশার অবসান চেয়ে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। যা বর্তমানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ইরানের সরকার পক্ষের অভিযোগ, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের প্রত্যক্ষ মদতে ইরানকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সূত্র অনুসারে ইরানে বর্তমানে চলা বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নরওয়ে ভিত্তিক ইরান হিউম্যান গ্রুপ (IHR) দাবি করেছে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ৯ জন শিশু সহ ৬৪৮ জনের মৃত্যু ছাড়াও হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ইরানে লাগাতার বিক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভ চললেও এখনও পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ আছে।
অন্যদিকে এদিনই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, যদি ওয়াশিংটন এখানে সামরিক অভিযান চায়, যা তারা আগেও করেছে তাহলে আমরাও তার জন্য প্রস্তুত।
ইরানে লাগাতার বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি হুমকি চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। এদিনও তিনি আমেরিকান নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছেড়ে আসতে বলেছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে কোনও সময় ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারে আমেরিকা। ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানানো হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারের নামিয়ে আনা আক্রমণে ইরানের মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ইরান জুড়ে এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকায় তেলের দাম আরও বেড়েছে এবং বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে সংঘাত আরও বাড়লে তা বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে। জানা গেছে, ইরানে অস্থিরতার কারণে ব্যারেল পিছু ৩ থেকে ৪ ডলার করে দাম বেড়েছে।
পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (ওপেক)-এর অন্যতম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্মুখীন হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্বের তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরান একটি প্রধান নিষেধাজ্ঞা-ভুক্ত তেল উৎপাদক দেশ এবং যেকোনো সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন