ইরান জুড়ে চলছে প্রবল সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। যে বিক্ষোভ পা দিয়েছে ১২ দিনে। বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে। হিংসাত্মক সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হিংসা যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে তাই ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইরানের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ইরান জুড়ে ২২০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভের সময় ৪ নিরাপত্তাকর্মী সহ ৩৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ১৯৭৯-এর আগেকার ইরানের পতাকা দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের প্রধান বাজারের প্রায় সব দোকান বন্ধ ছিল। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মূলত অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানে ছাত্রদের উদ্যোগে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা এখন আরও রাজনৈতিক আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরেই তেহরান এবং ইরানের অন্যান্য শহর জুড়ে বিক্ষোভকারীদের শ্লোগানের মূল লক্ষ্য আয়াতুল্লা আলি খোমেইনি। যিনি দেশের প্রধান।
ইরানে গত ১২ দিন ধরে চলা বিক্ষোভের জেরে আমেরিকান ডলারের অনুপাতে ইরানিয়ান মুদ্রার দাম তলানিতে ঠেকেছে। ইন্টারনেট সংস্থা নেটব্লক-এর তথ্য অনুসারে ইরানের সময় অনুসারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে থেকে সমগ্র ইরান জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের (Amnesty International) এক বিবৃতি অনুসারে, বিক্ষোভ দমন করতে ইরানে ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কর্প এবং পুলিশ বেআইনিভাবে রাইফেল ও শটগানের ব্যবহার করছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে জল কামান, মেটাল পেলেট, কাঁদানে গ্যাস। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর চলছে দমনমূলক আচরণ।
অভিযোগ, বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৬ শিশু সহ ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও নরওয়ের এক মানবাধিকার সংগঠনের এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান সরকার। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণ ও গুলিচালনার বিভিন্ন ভিডিও পোষ্ট করা হয়েছে।
ইরানের প্রাক্তন প্রয়াত শাহ-এর নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলাভি (Reja Pahlavi) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আজ রাতে লক্ষ লক্ষ ইরানি তাদের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের সরকার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ল্যান্ডলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। তারা এমনকি স্যাটেলাইট জ্যাম করারও চেষ্টা করতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন