

শনিবার ভোররাতে ইন্দোনেশিয়ায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রিখটর স্কেলে ৭.৭ তীব্রতার ভূমিকম্পের প্রভাবে আহত হয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। শনিবার ইন্দোনেশিয়ান সময় ভোর ৫ টার কিছু আগে ফ্লোরেস দ্বীপ অঞ্চলে এই তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইন্দোনেশিয়ান আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (BMKG) জানিয়েছে এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভূমিপৃষ্ট থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের প্রভাবে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পের পরপরই বেশ কয়েকটি আফটার শক অনুভূত হয়। যার মধ্যে তিনটির তীব্রতা ছিল যথাক্রমে ৬.১, ৫.৯ এবং ৫.৬ ম্যাগনিটিউড।
শনিবার ১৫ আগস্ট ভোরে ফ্লোরেসকে কাঁপিয়ে দেওয়া ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা (এনটিটি)-র পূর্ব মাঙ্গারাই রিজেন্সিতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব মাঙ্গারাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত ইউনিটের প্রধান, ফার্স্ট ইন্সপেক্টর আহমদ জ্যাকি শোদরি জানিয়েছেন, নিহত ১৭ জন বোরং, উত্তর ল্যাম্বা লেডা, ল্যাম্বা লেডা এবং সাম্বি রামপাস জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
জ্যাকির মতে, মৃতের সংখ্যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ এখনও তথ্য সংগ্রহ করছে এবং নিহতদের শনাক্ত করছে। প্রাণহানির পাশাপাশি এই ভূমিকম্পে বহু মানুষের আহত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখনও হতাহতের সংখ্যা এবং ভূমিকম্পের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছে। ভূমিকম্পে উপাসনালয়, সরকারি কার্যালয় ও ব্যাংকসহ বেশ কিছু জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে, শনিবার সকালে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা (এনটিটি)-র ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। এনটিটি গভর্নর মেলকি লাকা লেনা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, নিহতদের মধ্যে দুজন সিক্কা রিজেন্সির এবং বাকি তিনজন মাঙ্গারাই রিজেন্সির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও তা এখন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় বহু মানুষ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, অতীতে এত বড়ো ভূমিকম্প তাঁরা কখনও অনুভব করেননি। ইন্দোনেশিয়ার প্রশাসনিক সূত্র অনুসারে, বেশ কিছু দুর্গম অঞ্চলে এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ সমীক্ষা করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। যদিও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৫৪টি বাড়ি, ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৩টি ধর্মীয় স্থান, ৬টি সরকারি ভবন এবং ১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঙ্গারাই প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবথেকে বেশি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে উপকূলের ঠিক এই অংশেই একইরকম শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল; যে ভূমিকম্প ও তার ফলে হওয়া সুনামিতে ফ্লোরেস দ্বীপে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন