

শেষ হয়ে গেল ৪০১ বছরের ইতিহাস। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডাক পরিষেবায় ইতি টানলো ইউরোপের ডেনমার্ক। বিশ্বের ডাক ব্যবস্থার ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে ডেনমার্কেই প্রথম বন্ধ করে দেওয়া হল চিঠি বিলির ব্যবস্থা। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে চিঠির আদানপ্রদানের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শেষ চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কোপেনহেগেনের এনিগমা মিউজিয়াম অফ কমিউনিকেশনে (Enigma Museum of Communication)। ডেনমার্কে এখন থেকে ডাক পরিষেবার জন্য সাধারণ মানুষকে বেসরকারি ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে।
ডেনমার্কের ডাক পরিষেবা পরিচালনকারী সংস্থা পোষ্টনর্ড (PostNord) জানিয়েছে, গত ২৫ বছর ধরে ডেনমার্কে চিঠি আদানপ্রদানের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। ২০০০ সালে ডাক পরিষেবার মাধ্যমে ডেনমার্কে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন চিঠিপত্রের আদানপ্রদান হত। যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১১০ মিলিয়নে। ফলে এই মুহূর্তে এই পরিষেবা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিকভাবে কার্যকরী নয়। প্রসঙ্গত, ডেনমার্কের সরকারি ডাক সংস্থা পোষ্ট ডেনমার্ক ২০০৯ সালে পোষ্টনর্ড-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
পোষ্টনর্ড-এর যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ইসাবেলা বেক জারগেনসেন জানিয়েছেন, ডেনমার্ক এই মুহূর্তে ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম সারিতে। যেহেতু ডাক পরিষেবায় চিঠি আদান প্রদানের সংখ্যা কমেছে তাই ক্রমশ খরচ বাড়ছে। বর্তমানে ডেনমার্কে একটি সাধারণ চিঠি পাঠানোর খরচ দাঁড়িয়েছে ২৯.১১ ক্রোন (ভারতীয় টাকায় ৪১১ টাকা ৪৭ পয়সা)। যা ক্রমশ সাধারণ গ্রাহকদের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই কঠিন ছিল। কারণ এর ফলে প্রায় ১৫০০ কর্মী বা মোট কর্মীর এক তৃতীয়াংশ কাজ হারাচ্ছেন। বর্তমানে এই সংস্থা শুধুমাত্র পার্সেল ডেলিভারির কাজ করবে। ২০২৫-এর জুন মাস থেকেই শহর এবং শহর সংলগ্ন অঞ্চল থেকে ১৫০০টি লাল রঙের ডাকবাক্স সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। এই ডাকবাক্সের বেশ কিছু ইতিহাসের অংশ হিসেবে নিলাম করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ডাকবাক্স মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে এই সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছেন ডেনমার্কবাসীরাও। তাঁদের অধিকাংশেরই বক্তব্য শেষ কবে তাঁরা ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তা মনে নেই। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন এর ফলে বয়স্ক মানুষদের অসুবিধা হবে। বিশেষ করে যারা ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত নন এবং প্রান্তিক অঞ্চলে থাকেন। কারণ এঁরা এখনও পর্যন্ত ডাক পরিষেবার ওপরেই নির্ভরশীল।