আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা কিউবাতে ১৫ হাজার টন চাল পাঠালো চিন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে কিউবাতে ৬০ হাজার টন চাল পাঠানোর যে ঘোষণা সাম্প্রতিক সময়ে চিনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে তার প্রথম পর্যায়ে এই চাল পাঠানো হয়েছে। রবিবার কিউবার পক্ষ থেকে এই চালের প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে।
কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কিউবা এবং চিন যৌথভাবে এক সমাজ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। সেই অবস্থান থেকেই এই সংকটময় মুহূর্তে চিনের জনগণ, সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টি এবং সরকারের পাঠানো ১৫ হাজার টন চাল আমরা গ্রহণ করেছি এবং তাদের এই সহমর্মিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই লড়াইতে কিউবা একা নয়।
চিনের রাষ্ট্রদূত হুয়া জিং কিউবান টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনের পক্ষ থেকে কিউবাকে এটাই সবথেকে বড়ো খাদ্যদ্রব্য সাহায্য।
গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসের মাটি থেকে তুলে নিয়ে আসার পরেই আমেরিকা কিউবার ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবাতে তেল পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই চরম সংকটের মুখে পড়েছে কিউবা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য কিউবা থেকে সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করা। সেই লক্ষ্যেই তিনি কিউবার ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। যার ফলে কিউবা জুড়ে তীব্র জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবল এই অর্থনৈতিক চাপের মুখেও এখনও পর্যন্ত মাথা নত করেনি কিউবা। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা ভেনেজুয়েলার মত কিউবাতেও অভিযান চালাতে পারে আমেরিকা।
কিউবার ইলেকট্রিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার কিউবার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। একথা জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে কিউবার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়ংকর। রাজধানী হাভানাতেও গতকাল প্রায় ২২ ঘণ্টা কোনও বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। গত সপ্তাহেই কিউবার প্রায় ৭০ শতাংশ অঞ্চল বিদ্যুৎ বিহীন ছিল।
ডিডব্লু-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে কিউবা্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু রাখতে প্রতিদিন ১ লক্ষ ব্যারেল তেল লাগে। যার মধ্যে দেশ থেকেই পাওয়া যায় প্রায় ৪০ হাজার ব্যারেল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন