

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো (Nicholas Maduro) এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে (Cilia Flores) আটক করে আমেরিকায় নিয়ে আসার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বার্নি স্যান্ডার্স (Bernie Sanders)। নিজের এক্স হ্যান্ডেল (পূর্বতন ট্যুইটার) এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে এক বিবৃতি দিয়েছেন ভার্মন্ট (Vermont) থেকে নির্বাচিত নির্দল সেনেটর বার্নি।
গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছিলেন, "অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর সাংবিধানিক অধিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই। যখন ৬০ শতাংশ আমেরিকান কোনোমতে দিন গুজরান করছেন, তখন তার উচিত দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া, তার অবৈধ সামরিক দুঃসাহসিকতা বন্ধ করা এবং বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলোর জন্য ভেনিজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা।"
গতকালই অন্য এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সংবিধান এবং আইনের শাসনের প্রতি তার অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই অধিকার নেই যে তিনি একতরফাভাবে এই দেশকে যুদ্ধে ঠেলে দেবেন, এমনকি মাদুরোর মতো একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ও নৃশংস স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধেও নয়। ট্রাম্প আজ সকালে যেমনটা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলাকে 'পরিচালনা' করার কোনো অধিকার নেই। এই অবৈধ সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কংগ্রেসকে অবিলম্বে একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব পাস করতে হবে।"
বিবৃতিতে তিনি জানান, "ভেনিজুয়েলার উপর ট্রাম্পের এই হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে। আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যেকোনো দেশকে অন্য কোনো দেশের সম্পদ দখল করতে বা তাদের সরকার পরিবর্তন করার জন্য আক্রমণ করার সবুজ সংকেত দেয়। এটি সেই ভয়ংকর শক্তির যুক্তি, যা পুতিন ইউক্রেনের উপর তার নৃশংস হামলাকে ন্যায্যতা দিতে ব্যবহার করেছিলেন।"
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, "ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন প্রায়শই বলেছে যে তারা মনরো মতবাদকে (Monroe Doctrine) পুনরুজ্জীবিত করতে চায় এবং দাবি করে যে এই গোলার্ধের বিষয়গুলিতে আধিপত্য বিস্তারের অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তারা বিশ্বের বৃহত্তম ভেনিজুয়েলার তেলের মজুদ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছে। এটি চরম সাম্রাজ্যবাদ। এই ঘটনা লাতিন আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অন্ধকারতম অধ্যায়গুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যা এক ভয়াবহ উত্তরাধিকার রেখে গেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্ব এর নিন্দা করবে এবং করা উচিত।"
ট্রাম্প 'আমেরিকা ফার্স্ট' প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রপতি পদে প্রচার চালিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে 'শান্তির প্রার্থী' বলে দাবি করেছিলেন। এমন এক সময়ে যখন ৬০ শতাংশ আমেরিকান মাস শেষে বেতনের জন্য অপেক্ষা করে জীবনযাপন করে, যখন আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, যখন মানুষ বাড়ি কিনতে পারছে না এবং যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লক্ষ লক্ষ চাকরির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই সময় প্রেসিডেন্টের উচিত এই দেশের সংকটগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং বিদেশে এই সামরিক দুঃসাহসিকতা বন্ধ করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'পরিচালনা' করার কাজে ট্রাম্প ব্যর্থ হচ্ছেন। তার ভেনিজুয়েলাকে 'পরিচালনা' করার চেষ্টা করা উচিত নয়।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন