

২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হবার পর এই প্রথম অডিও বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার নয়াদিল্লীতে ‘বাঙলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সভায় অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, 'আমি মনে করি বাংলাদেশের জনগণের কাছে ডঃ মহম্মদ ইউনুসের ক্ষমা চাওয়া উচিত।"
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে।
গতকাল দিল্লির ফরেন করসপনডেন্টস ক্লাবে এক সভায় সশরীরে হাজির হননি শেখ হাসিনা। ওই সভায় শেখ হাসিনার অডিও মেসেজ বাজিয়ে শোনানো হয়। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সদস্য সহ বহু বিশিষ্টজন। সভায় তিনি বলেন, “দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত। গণতন্ত্র নির্বাসনে। আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।”
এদিন শেখ হাসিনার মুখে শোনা গেছে হতাশ না হবার বার্তা। তিনি বলেছেন, “আশা ছাড়বেন না। যারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাঁদের হাত থেকে আমাদের দেশকে ফিরিয়ে আনার লড়াইতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে আমাদের সাহায্য করুন।”
গতকালের সভা থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে ‘সুদখোর’, ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’, ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, ‘টাকা পাচারকারী’ বলে সম্বোধিত করেন শেখ হাসিনা। ইউনুস সরকারকে ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল’ বলেও তিনি জানান। এই সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করে উৎখাতের ডাক দেন শেখ হাসিনা।
গতকালের সভা থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দেড় বছর ক্ষমতায় থাকা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দাবি জানানো হয় ইউনুস সরকার অপসারণের। প্রশ্ন তোলা হয় সে দেশে সংখ্যালঘু মানুষের ওপরে নির্যাতন, দলীয় কর্মীদের হত্যার বিষয়গুলি। দেশ যেভাবে মব সংস্কৃতির হাতে চলে যাচ্ছে প্রশ্ন ওঠে তা নিয়েও। সভা থেকেই তোলা হয়েছে পাঁচ দফা দাবি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এগুলিকে ‘আশু কর্তব্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন