

সাহিত্য জগতে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। যিনি বাঙালি পাঠক সমাজে শংকর নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। 'চৌরঙ্গি', 'সীমাবদ্ধ', 'জন অরণ্য', 'ঘরের মধ্যে ঘর', 'কত অজানারে', 'নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি'-সহ বহু জনপ্রিয় উপন্যাস লিখেছেন তিনি।
তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। 'চৌরঙ্গী' থেকে 'কত অজানারে', 'সীমাবদ্ধ' থেকে 'জন অরণ্য'—তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তাঁর প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।"
১৯৩৩ সালে বনগাঁয় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। কিছুটা সময় সেখানে কাটিয়ে চলে আসেন হাওড়ায়। কিশোর বয়সেই হারান বাবাকে। তখন থেকেই শুরু হয় লড়াই। জীবিকার প্রয়োজনে কখনও অফিসের কেরানির কাজ, কখনও গৃহপরিচারক, এমনকি হকারিও করেছেন তিনি।
কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ব্রিটিশ ব্যারিস্টার ফ্রেডরিক বারওয়েলের কাছে কাজ করতেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাকেই আশ্রয় করে লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘কত অজানারে’, প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। এই উপন্যাস তাঁকে বিপুল পরিচিতি এনে দেয়। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাননি শংকর। একের পর এক উপন্যাস লিখে গেছেন তিনি।
তবে তাঁকে সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে 'চৌরঙ্গী'। কলকাতার হোটেল-জীবনের অন্তরাল কাহিনি, মানুষের সাফল্য-ব্যর্থতার গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। ২০১২ সাল পর্যন্ত উপন্যাসটির শতাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যে বিরল কৃতিত্ব।
১৯৯৩ সালে সাহিত্যিক শংকর তাঁর 'ঘরের মধ্যে ঘর' উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম পুরস্কার পান। ২০২০ সালে 'একা একা একাশী' নামক আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসের জন্য তাঁকে সাহিত্য আকাডেমি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন