

আমূল, মাদার ডেয়ারি এবং কান্ট্রি ডিলাইটের মতো নামজাদা সংস্থার প্যাকেটজাত দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত! FSSAI-এর নির্ধারিত সীমার চেয়ে এই উপস্থিতির হার অনেকটাই বেশি। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর আতঙ্কিত আমজনতা। তবে দুধ বিক্রিকারী সংস্থাগুলি এই রিপোর্ট অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি, 'ট্রাস্টিফায়েড' (Trustified) নামে একটি স্বাধীন অনলাইন তদন্তকারী সংস্থা আমূল, মাদার ডেয়ারি এবং কান্ট্রি ডিলাইটের মতো নামজাদা সংস্থার প্যাকেটজাত দুধের গুণমান পরীক্ষা করেছিল। সংস্থাটি তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে, আমূল তাজা দুধে কলিফর্ম কাউন্ট প্রায় ৯৮০ CFU/ml এবং আমূল গোল্ড দুধে কলিফর্ম কাউন্ট প্রায় ২৫ CFU/ml, দুটিই FSSAI-এর নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি।
অন্যদিকে, মাদার ডেয়ারি গোরুর দুধে টোটাল প্লেট কাউন্ট প্রায় ২,৪০,০০০ CFU/ml, যা নির্ধারিত সীমার প্রায় আট গুণ বেশি। কান্ট্রি ডিলাইট সংস্থার গরুর দুধে এই পরিমাণ প্রায় ৬০,০০০ CFU/ml, নির্ধারিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ। বলে রাখা ভালো, দুধের টোটাল প্লেট কাউন্ট হল একটি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে দুধের নমুনায় উপস্থিত মোট জীবাণু ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা পরিমাপ করা হয়।
কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া কী?
কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মাটি, জল, গাছপালা, প্রাণীর অন্ত্র এবং মানুষের অন্ত্রে পাওয়া যায়। গুচ্ছ আকারে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করে না। তবে উচ্চ মাত্রার কলিফর্ম জ্বর, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, মাথা ব্যথার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ দুধ অতিরিক্ত মাত্রায় পান করলে, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাউচ দুধ কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব তা ফুটিয়ে নিতে হবে এবং তারপর ৪° সেলসিয়াসের নিচে ফ্রিজে রাখতে হবে। বারবার গরম করা ও ঠান্ডা করা এড়ানো উচিত। কারণ ৫° থেকে ৬০° সেলসিয়াসের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে।
কী বক্তব্য আমূলের?
'ট্রাস্টিফায়েড' সংস্থার রিপোর্ট প্রসঙ্গে আমূল জানিয়েছে, তাদের সমস্ত পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে ৫০টির বেশি গুণমান পরীক্ষা হয়। পণ্যগুলি সমস্তধরনের সুরক্ষা মান পূরণ করে। এই ধরনের ভিডিও এবং পোস্ট 'ভুল তথ্য' ছড়াচ্ছে।
মাদার ডেয়ারি ও কান্ট্রি ডিলাইটও এই রিপোর্ট নস্যাৎ করেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন