

রাজ্যে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) আক্রান্ত নার্সের মৃত্যু হল। বারাসাতের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গত বেশ কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর ফুসফুসে ‘সেকেন্ডারি ইনফেকশন’ হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। চলতি মরশুমে রাজ্যে এই প্রথম নিপা আক্রান্তের মৃত্যু হল।
গত ৪ জানুয়ারি জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে বারাসতের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই নার্স। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ করে তাঁর নমুনা পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষাগারে। রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সেই দিন থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এই নার্সের সাথে আরও এক নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন আগেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে।
উল্লেখ্য, এই দুই নার্সের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসার পর গত কয়েক দিনে কোন কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে তাঁরা এসেছিলেন, তা জানতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’-এর কাজ শুরু করেছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সকলের নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
নিপা ভাইরাসের উৎস মূলত বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল বা লালা মেশানো কোনও ফল খেলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া বাদুড়ের আধখাওয়া ফলের সঙ্গে ভাল ফল মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তথ্য অনুযায়ী, শুয়োরও এই ভাইরাসের উৎস হতে পারে। এছাড়া আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক বা অন্য জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথমে সাধারণ জ্বর হয়। এরপর শুরু হয় মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, বমি। তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন রোগী। শুরু হয় খিঁচুনিও। অনেক সময় ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী কোমায়ও চলে যেতে পারেন। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেকটাই বেশি। ৪০% থেকে ৭৫% এর মধ্যে। আপাতত এই ভাইরাসের কোনও টিকা আবিষ্কার হয়নি। রোগীকে সাধারণত উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যান্য যেসব প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সেগুলি হল: (১) সাবান জল বা স্যানিটাইজার ব্যবহার; (২) মাস্কের ব্যবহার; (৩) বাদুড় বা অন্যান্য পশুপাখির দাঁত বসানো বা আধ খাওয়া ফল না খাওয়া; (৪) ফল হওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া; (৫) তাল বা খেজুর গাছের টাটকা রস না খাওয়া বা ফুটিয়ে খাওয়া ইত্যাদি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন