

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং এর আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC)-র নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে দশটির মধ্যে চারটি ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য। তামাক, অ্যালকোহল, হাই বডি মাস ইনডেক্স, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ু দূষণ, অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণ সহ ৩০টি বিষয় নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে নতুন গবেষণায়। প্রথমবারের মতো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী নয়টি সংক্রমণও পরীক্ষা করা হয়েছে।
আজ অর্থাৎ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্যানসার দিবস। এবারের থিম ‘অনন্যতায় ঐকতান বা একতাবদ্ধ হয়ে অনন্য’। তার আগে এই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে নতুন ক্যান্সার আক্রান্তদের ৩৭%, অর্থাৎ প্রায় ৭১ লক্ষ মামলা প্রতিরোধযোগ্য ছিল। এই গবেষণা বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের বোঝা কমাতে প্রতিরোধের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
১৮৫টি দেশ এবং ৩৬ ধরনের ক্যান্সারের তথ্য ব্যবহার করে নতুন গবেষণাটি করা হয়েছে। গবেষণায় তামাককে ক্যান্সারের প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সমস্ত নতুন ক্যান্সার মামলার ১৫%-এর জন্য দায়ী। এরপরেই রয়েছে নানা ধরণের ইনফেকশন (১০%) এবং অ্যালকোহল সেবন (৩%)।
বিশ্বব্যাপী পুরুষ ও নারীদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসারের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে তিন ধরনের ক্যানসার দায়ী - ফুসফুস, পাকস্থলী এবং জরায়ুমুখের ক্যানসার।
ফুসফুসের ক্যান্সার প্রধানত ধূমপান এবং বায়ু দূষণের সাথে সম্পর্কিত, পাকস্থলীর ক্যান্সার মূলত হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণের কারণে ঘটে এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রধানত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) দ্বারা সৃষ্ট হয়।
গবেষণাটির লেখক এবং WHO-র ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ দলের প্রধান ডঃ আন্দ্রে ইলবাউই বলেন, ''বিশ্বব্যাপী ক্যানসার বিষয়ে এটি প্রথম কোনো গবেষণা যেখানে দেখা গেছে, ক্যানসারের ঝুঁকির কারণগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিভিন্ন দেশ এবং সেখানে বসবাসকারী গোষ্ঠীর মধ্যেকার ধরণগুলো আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করে, আমরা সরকার এবং ব্যক্তিদের আরও নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে পারি, যাতে ক্যান্সার শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।”
পুরুষ, মহিলা এবং অঞ্চলভেদে ক্যান্সারের ঝুঁকি ভিন্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসারের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পুরুষদের মধ্যে নতুন ক্যানসার মামলার ৪৫ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য। পুরুষদের মধ্যে, ক্যান্সারের জন্য দায়ী মূলত ধূমপান (২৩ শতাংশ)। ইনফেকশন থেকে ক্যান্সারের হার ৯ শতাংশ এবং অ্যালকোহল পানের জন্য দায়ী ৪ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী মহিলাদের মধ্যে, সমস্ত নতুন ক্যান্সার মামলার ১১ শতাংশের জন্য দায়ী ইনফেকশন। এরপরেই রয়েছে ধূমপান (৬%) এবং উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (৩%)।
গবেষণায় প্রেক্ষাপট-নির্দিষ্ট প্রতিরোধ কৌশলগুলোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ, এইচপিভি এবং হেপাটাইটিস বি-এর মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকাদান, উন্নত বায়ুর মান, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং শারীরিক কার্যকলাপের পরিবেশ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন