SRFTI: অনুরাগ, কমলেশ্বর, ঋত্বিক, ঋদ্ধি, শ্রাবন্তী - SRFTI-তে বহিরাগত হামলার প্রতিবাদে সরব বিশিষ্টরা

People's Reporter: রবিবার SRFTI-র প্রেক্ষাগৃহে বহিরাগতদের এক কর্মসূচিকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে RSS-এর শাখা সংগঠন ABGP-র কর্মসূচির বিরোধিতা করে।
রবিবার এসআরএফটিআই-তে বহিরাগতদের হামলার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
রবিবার এসআরএফটিআই-তে বহিরাগতদের হামলার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদছবি ন্যাশনাল হেরাল্ডের এক্স হ্যান্ডেল ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট
Published on: 

রবিবারের এসআরএফটিআই-এর (SRFTI) ঘটনার প্রতিবাদে আগেই সরব হয়েছিলেন বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। গতকালই এই ঘটনার প্রতিবাদে নিজের ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে এসআরএফটিআই ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘এসব করার জন্যই এরা বাংলার ভোটগুলো চুরি করেছিল’। অনুরাগ কাশ্যপের পর এবার গতকালের ঘটনায় প্রতিবাদ জানালেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, ঋত্বিক চক্রবর্তী, রিদ্ধি সেন, কৌশিক গাঙ্গুলী, শ্রাবন্তী ভট্টাচার্যরা।

কী জানিয়েছেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়?

বিশিষ্ট পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় তাঁর ফেসবুক পোস্টে রবিবারের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "সরকারি ফিল্ম ইনস্টিটিউটে (কেন্দ্রীয় সরকার চালিত স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান) ভিন্ন শিল্পমাধ্যম, টেলিভিশন বা ফিল্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন কোন সংগঠনের কর্মসূচি পালন করার অনুমতি কে দিলো? ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁদের 'দেশদ্রোহী' তকমা কে দিলো? তদন্ত হওয়া উচিৎ।"

কী জানিয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী?

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় সরাসরি প্রতিবাদ জানান বিশিষ্ট অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। সোমবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে গতকালের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশনা ছাড়াই গেট টপকে ঢোকার সংস্কৃতি যাদের তারা সংস্কৃতিবিহীন অশিক্ষিত তো বটেই এবং অনেকাংশেই গুন্ডা। অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েত নামের এক সংস্থা সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটের অডিটোরিয়ামে সভা করার পারমিশন কেমন করে পায়? এত গুন্ডামিই বা কিভাবে করতে পারে? ছাত্রদের নৃশংস ভাবে রক্তাক্ত করার সাহস ওদের কোথা থেকেই বা আসে? যে বা যারা এই সভার পারমিশন দিয়েছে তারাও ওই গুন্ডাগ্যাং এর পার্ট কিনা খতিয়ে দেখুক প্রশাসন। দোষীদের শাস্তি হয় কিনা সেদিকে নজর থাকুক আমাদের সবার।”

কী বললেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন?

অভিনেতা ঋদ্ধি সেন রবিবার রাতেই তাঁর প্রোফাইলে এসআরএফটিআই-এর গতকালের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন, “বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অধিকাংশ কলাকুশলীরা সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং সদস্যদের ওপর ABGP’র করা শারিরিক হেনস্থা নিয়ে প্রতিবাদ করবেন না, কারণ তারা সত্যজিৎ রায় বা উত্তমকুমারের শতবর্ষ উদযাপনে আছেন, কিন্তু শতবর্ষ পরে চলচ্চিত্রের ছাত্রদের উত্তম মধ্যম ধোলাই দেওয়ার ঘটনায় নেই, কারণ? তারা বেশিরভাগই অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সরকারের যন্তর মন্তর ঘরের রেগুলার মগজ ধোলাই খাওয়ার সদস্য। যারা যেকোনো ক্ষমতার ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস’ তাদের প্রতিক্রিয়া কি হবে সেটা নিয়ে সময় ব্যয় না করে আসল শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজনীয়। যে রাজনৈতিক দলের ইতিহাস ঘৃণার অক্ষরে লেখা তাদের বর্তমান যেমন হওয়ার কথা ঠিক তেমনিই আছে, ভয় এবং ক্ষয়ের ভরসায় মোড়া। যারা এখনো অবাক হন তারা আরেকটু অপেক্ষা করুন, সবে ভোট চুরি হয়েছে, গণতন্ত্র চুরি হয়ে গেছে আগেই, অবাক হওয়াগুলো চুরি হয়ে যাবে আর কিছুদিন পরেই, তখন নির্বাক নাগরিকরা অবশেষে চিনে নেবে ঘুসপেটিয়া,  দেশদ্রোহী সরকারকে।”

কী জানিয়েছেন পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী?

বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলী তাঁর ফেসবুক পোস্টে রবিবারের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এদিনের পোস্টে তিনি লেখেন, “… বেশ কিছু বছর ধরেই নানা সময় সেখানে গণ্ডগোল, ঘেরাও, আন্দোলন হয়েছে; তবে তা অভ্যন্তরীণ ছিলো। সব থেকে বড় কথা সবই ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া নিয়ে। গতকালের ঘটনা তা নয়। প্রশাসন নিশ্চই দ্রুত  পদক্ষেপ নেবে ও সমাধান করবে পরিস্থিতির। কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাই ভবিষ্যতে কোনও জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও অংশ ভাড়ায় দেওয়ার আগে বিবেচনা করতে যে, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা কোনও ভাবে যুক্ত বা প্রাসঙ্গিক কিনা। সেটা না হলে আর দশটা ব্যাঙ্কোয়েট বা হলের মতো ভাড়া না দিলেই মঙ্গল। আমরা সচেতন না হলে দেশের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি গতকালের মতো খারাপ হবে বারবার।…”

কী জানালেন অভিনেতা শ্রাবন্তী ভট্টাচার্য?

অভিনেত্রী শ্রাবন্তী ভট্টাচার্য তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আবারও খুব স্পষ্ট করছি নিজের অবস্থান। কোনো কাজের দায়, পেটের দায়, প্রেমের দায়, হ্যানের দায়, ত্যানের দায়, ‘আমি তো এম্প্যাথ’ এইসব ভাট বকার দায়ে কোনো দক্ষিণপন্থীর সাথে আপোষ করবো না। ভাত ডাল খেয়ে থাকবো তবু ভালো, কিন্তু আপোষ  করবোনা। আজকে যে ভিডিওগুলো সামনে আসছে Srfti-র সেখানে ভারতের নানা জায়গা থেকে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। লজ্জা, ধিক্কার এই সব কিছু নিয়ে আমার সাধ্যমতো প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

রবিবার এসআরএফটিআই-তে কী হয়েছিল?

গতকাল রবিবার এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে বহিরাগত এক সংস্থার কর্মসূচিকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরএসএস-এর শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে ওই কর্মসূচির বিরোধিতা করা হয়। এরপরেই দুই পক্ষের বচসা বেঁধে যায়। এবিজিপি-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় এসআরএফটিআই-এর পড়ুয়ারা তাদের অনুষ্ঠানের পোস্টার ব্যানার ছিঁড়ে দিয়েছে। তাদের মারধোর করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয় এবিজিপির বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

SRFTI-এর ছাত্র সংগঠনের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বহিরাগত ওই সংগঠনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার আগে এই বিষয়ে ছাত্র সংসদ বা শিক্ষার্থীদের কিছুই জানানো হয়নি। কেন শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে রেখে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অডিটোরিয়ামে পোস্টার লাগাতে গেলে এবিজিপি-র সদস্যরা তাঁদের মারধর শুরু করেন। আক্রমণের হাত রেখে রেহাই মেলেনি মহিলা শিক্ষার্থীদেরও। তাদের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আক্রমণের মুখে পড়েন লাইব্রেরিয়ান। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কীভাবে টাকার বিনিময়ে কোনও সংগঠনের ‘ব্যক্তিগত’ অনুষ্ঠান হতে পারে?

আজ সোমবার এসআরএফটিআই-এর পরিস্থিতি

গতকাল বহিরাগতদের হামলার পরে রাতভর উৎকণ্ঠায় কেটেছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পড়ুয়াদের। যার জেরে সোমবার এসআরএফটিআই-তে পঠনপাঠন স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

রবিবার এসআরএফটিআই-তে বহিরাগতদের হামলার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
ব্যাঙ্ক ধর্মঘট প্রত্যাহার, দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য তৈরি হবে উচ্চপর্যায়ের কমিটি, ডেডলাইন ১ ডিসেম্বর
রবিবার এসআরএফটিআই-তে বহিরাগতদের হামলার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
UGC NET: ফের বিতর্ক এনটিএ-কে নিয়ে; এবার ইউজিসি নেটে প্রশ্নপত্রে ভুলের কারণে বাতিল তিন বিষয়ের পরীক্ষা

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in