সিনেমার পর্দায় যাঁর উপস্থিতি মাত্রই দর্শকের মুখে হাসি ফুটে উঠত, সেই বর্ষীয়ান অভিনেতা ও কমেডিয়ান মুস্তাক খান চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম চেনা এই মুখের বর্ণময় ক্যারিয়ার ও জীবনের কিছু জানা-অজানা অধ্যায়:
মধ্যপ্রদেশের ছোট শহর বাইহার থেকে উঠে আসা এই অভিনেতার অভিনয় জীবনের আসল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল মঞ্চে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সঈদ আখতার মির্জার সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিউ আঁতা হাই’-এর মাধ্যমে সেলুলয়েডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। আশির দশকে দূরদর্শনের কালজয়ী ধারাবাহিক ‘নুক্কড়’-এ এক ছোটো চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকমনে বিশেষ জায়গা করে নেয়।
ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও প্রধান তারকাদের পাশে নিজের স্বকীয় উপস্থিতি বজায় রাখায় পারদর্শী ছিলেন মুস্তাক খান।
মহেশ ভাট : ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘সড়ক’ এবং ‘হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে’-র মতো আইকনিক ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
অ্যাকশন ও কমেডির মেলবন্ধন: সাইডকিক হিসেবেই হোক বা কমিক রিলিফ—‘ঘায়েল’, ‘জোড়ি নম্বর ১’ এবং ‘মুঝসে শাদি করোগি’-র মতো বাণিজ্যিক ছবিতেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।
২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যানেস বাজমির ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে ‘বল্লু’ চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা হয়ে ওঠে। অনিল কাপুর, নানা পাটেকর ও অক্ষয় কুমারের উপস্থিতির মাঝেও তাঁর অনবদ্য সংলাপ পরিবেশন—“মেরি এক টাং নকলি হাই, ম্যায় হকি কা বহুত বড়া খিলাড়ি থা...” আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম কালচারের অন্যতম সেরা হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া ‘গদর: এক প্রেম কথা’ এবং ২০২৩-এর ‘গদর ২’-তে ‘গুল খান’ চরিত্রে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল সমান নজরকাড়া।
পর্দায় সবসময় হাসিখুশি চরিত্র ফুটিয়ে তুললেও ২০২৪ সালের শেষের দিকে এক বিপজ্জনক ঘটনার মুখোমুখি হন মুস্তাক খান। উত্তরপ্রদেশের মীরাটে এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের নামে ডেকে এনে তাঁকে অপহরণ করা হয় এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ চাওয়া হয়। যদিও নিজের বুদ্ধি ও সাহসিকতার জোরে তিনি অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
হাস্যরসের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এই অসামান্য গুণী শিল্পীর প্রয়াণে বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তবে চরিত্র ছোট হোক কিংবা বড়, অভিনয়ের মধ্য দিয়েই তিনি থেকে যাবেন সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন