

“গায়ের জোরে কোন রাজনৈতিক মত বা দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।” ঠিক এই ভাষাতেই আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের সাম্প্রতিক রঙ বিতর্কে প্রতিবাদ জানালেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা কমলেশ্বর মুখার্জি। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে একথা জানিয়েছেন খ্যাতনামা এই পরিচালক। গতকালই বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে আকাদেমি চত্বরের সামনের অংশের রঙ গেরুয়া করে দেওয়া হয়। গত এক মাসে তিনবার এই রঙ বদলের ঘটনা ঘটেছে আকাদেমি চত্বরে।
এদিনের পোস্টে কমলেশ্বর মুখার্জি লিখেছেন, ইতিহাস বলে মনের জোর, গায়ের জোরের থেকে বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী। কারোর নাম না করে করা ইঙ্গিতপূর্ণ ওই বক্তব্যে পরিচালক জানিয়েছেন, “ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা বা প্রদর্শন করতে কোন হেরিটেজ প্রপার্টির (এক্ষেত্রে, দ্য একাডেমি অফ ফাইন আর্টস) রং (গেরুয়া রং করে) বদলে ফেলাটা হাস্যকর একটা প্রচেষ্টা। গায়ের জোরে কোন রাজনৈতিক মত বা দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। মনের জোরে মানুষ তা পাল্টে দেবেনই। আর ইতিহাস বলে মনের জোর, গায়ের জোরের থেকে বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী। বিশেষ করে সংস্কৃতির আঙিনায়।”
আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের দুরবস্থার কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। যেখানে তিনি লিখছেন, “যদি ওই থিয়েটারের সংস্কার করতে হয়, তার অন্দরমহল ঢেলে সাজানো দরকার। ব্যাকস্টেজ, মেক আপ রুম, মঞ্চের বিস্তৃতি, ধ্বনি বা আলো প্রক্ষেপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, অ্যাকিউসটিক্স, দর্শকাসন, প্রবেশ-প্রস্থানদ্বার, এয়ার কন্ডিশনিং - এসব নিয়ে ভাবুন।”
আকাদেমির রঙ বদল প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে দেশের সাম্প্রতিক অবস্থাও তুলে ধরেছেন এই পরিচালক। তিনি লিখেছেন, “এই মুহূর্তে, দেশের ক্ষুধা সূচক লজ্জাজনক জায়গায় পৌঁছেছে। দেশে ও রাজ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। জিনিসের দাম বাড়ছে। প্রতিবাদী সংস্কৃতি, শিক্ষা-চেতনা পিছচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের অবস্থা সঙ্গিন।ওষুধ মহার্ঘ্য। বহু বৈধ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। অর্গানাইজড এবং আনঅর্গানাইজড লেবার সেক্টরে কর্মীদের রোজগার ও নিরাপত্তার হাল শোচনীয়। মানবাধিকার আর বাকস্বাধীনতার জন্যে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। সেগুলো দেশের মানুষের জীবন মরণ সমস্যা। সরকারে থেকে, এসব না দেখে, এগুলো কি হচ্ছেটা কী?”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১২ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট, এই এক মাসে তিনবার রঙ বদল হয়েছে আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ১২ জুলাই আকাদেমির সামনের অংশ গেরুয়া রঙ করে দেন বিজেপি মনোভাবাপন্ন কিছু মানুষ। এরপর গত ১১ আগস্ট সেখানে নাট্যকর্মী ও কলাকুশলীরা গিয়ে সাদা রঙ করে দেন। বুধবার ১২ আগস্ট ফের সেই জায়গায় গিয়ে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে কিছু মানুষ জায়গাটিতে গেরুয়া রঙ করে দিয়েছেন। যা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।
বুধবার আকাদেমিতে রঙ করতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, সিপিআইএম-এর শ্রমিক সংগঠন এই ঐতিহ্যকে দখল করে রাখতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, গেরুয়া ত্যাগের রঙ। তার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে। বিকাশ ভট্টাচার্য গেরুয়ার বিরুদ্ধাচরণ করেন। তাই তিনিও ওই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন।
১২ জুলাইয়ের ঘটনার নিন্দা করে শমীক ভট্টাচার্য নাট্যকর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন এবং পুরো বিষয়টি মিটিয়ে দেবার জন্য পনেরো দিন সময় চেয়ে নেন। নির্ধারিত পনেরো দিন পেরিয়ে গেলেও কিছু না হওয়ায় মঙ্গলবার আকাদেমির সামনে কিছু নাট্যকর্মী ও কলাকুশলী জড়ো হয়ে ওই গেরুয়া রঙের ওপরেই সাদা রঙ করে দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন