

রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল 'ভূতের ভবিষ্যৎ' খ্যাত পরিচালক অনীক দত্তের। বুধবার দুপুরে তিনি তাঁর হিন্দুস্থান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান বলে জানা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই তাঁর মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়। মৃত্যুকালে পরিচালকের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
খ্যাতনামা এই পরিচালকের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য দানা বেঁধেছে। ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল বা কীভাবে তিনি পড়ে গেলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছেন কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের আধিকারিকরা। যেখানে তাঁর দেহ পড়েছিল ইতিমধ্যেই সেই জায়গা ঘিরে দিয়েছে পুলিশ।
২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবি করে শিরোনামে আসনে পরিচালক অনীক দত্ত। তার আগে দীর্ঘদিন তিনি বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর একে একে আশ্চর্য প্রদীপ, মেঘনাদবধ রহস্য, ভবিষ্যতের ভূত, বরুণবাবুর বন্ধু, অপরাজিত প্রভৃতি ছবি তৈরি করে সাড়া জাগান বামপন্থী চিন্তাভাবনার মানুষ হিসেবে পরিচিত অনীক দত্ত।
প্রয়াত পরিচালকের ভবিষ্যতের ভূত নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল বাংলার চলচ্চিত্র মহল। তীব্র রাজনৈতিক ব্যঙ্গযুক্ত ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেয় তৎকালীন তৃণমূল সরকার। বিভিন্ন সিনেমাহলে শো বাতিল করে দেওয়া হয়। যা নিয়ে মামলা হয় এবং সেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। এই সিনেমায় তৎকালীন রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শাসক দলের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
ভবিষ্যতের ভূতের প্রদর্শন বন্ধ করে দেবার পর প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন কলাকুশলীরা। যে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সহ বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। পরে সুপ্রিম কোর্ট এই সিনেমার প্রদর্শন শুরু করার নির্দেশ দেয়।
বুধবার পরিচালকের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা জিতু কামাল, বাম নেতা শতরূপ ঘোষ, সৃজন ভট্টাচার্য, শ্রীলেখা মিত্র, আবীর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখেরা। রয়েছেন তাঁর স্ত্রীও। এসেছেন বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে টলিউডে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন