

লাল সেলাম দিতে দিতে চিরবিদায় জানানো হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিজয়গড়ের বাড়ি থেকে পদযাত্রা করে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর শববাহী গাড়ি। লাল পতাকায় মোড়া ছিল শববাহী গাড়ি। তাঁর গাড়ি ঘিরে ছিলেন তরুণ বাম নেতা-নেত্রী এবং সমর্থকরা। তাঁদের কণ্ঠে ছিল ‘জাগো জাগো সর্বহারা’ গান। রাহুলের পরিবারের অনুরোধ মেনে ব্যক্তিগত পরিসরে সারা হবে তাঁর শেষকৃত্য।
এদিন সকাল থেকেই অভিনেতার বিজয়গড়ের বাড়িতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সিনেমা-টেলিভিশন জগতের বহু মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাঁর অগুনতি অনুরাগী। তাঁর রাজনৈতিক দলের সহযোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও।
এদিন বিকেল তিনটের কিছু আগে তমলুক হাসপাতাল থেকে বিজয়গড়ের বাড়িতে পৌঁছায় রাহুলের নিথর দেহ। তমলুক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় তাঁর। অভিনেতার ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে রাহুলের। তাঁর ফুসফুসের ভিতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল পাওয়া গিয়েছে। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, পাকস্থলীর ভিতরেও বালি ঢুকে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ধরে জলের তলায় ডুবে থাকলে এমন হয়। কমপক্ষে এক ঘণ্টা জলের তলায় ছিলেন অভিনেতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর শরীর থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে ভিসেরার।
রাহুলের মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কী ভাবে এতক্ষণ জলের তলায় তিনি আটকে থাকার পরেও উদ্ধার করা গেল না? লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বোটের আয়োজন কেন ছিল না সমুদ্রসৈকতে? প্রয়োজনীয় আপৎকালীন চিকিৎসক কেন ছিলেন না শুটিংস্থলে? নজরদারির এতো অভাব কেন?
অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। যে ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল, তার ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন টলিপাড়ার অনেকে। শুটিং-এর সময় নিরাপত্তা নিয়ে আর্টিস্ট ফোরাম কী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে তাও জানতে চেয়েছেন অনেকে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন